তাসিন আহমেদ
জিয়ৎ
Available Book Type

Paper Book

Book Info:
লেখক: ………………..তাসিন আহমেদ
ফরম্যাট: ……………..Hardcover
প্রকাশকাল: ………….২০২৫
পৃষ্ঠা: …………………….৩৩৬
ভাষা: ……………………বাংলা
জিয়ৎ
তাসিন আহমেদ
Rated 4.25 out of 5 based on 4 customer ratings
(4 customer reviews)

৳  550.00

 

বীভৎস অস্বাভাবিক লাশ, কাল্ট এবং সবার অগোচরে থাকা এক এক্সপেরিমেন্ট—সবকিছু মিশে যায় এক বিন্দুতে৷ ইতিহাস! বাংলার হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস৷ গল্পটা আমাদেরকে ঠিক কোথায় নিয়ে যাবে? ভয়ানক কোনো কানাগলিতে কি লুকিয়ে আছে দৈব কোনো শক্তি?

পাঠক, তাসিন আহমেদের “জিয়ৎ” আপনাদেরকে ঘুরিয়ে আনবে জমজমাট এক রহস্যের গলিঘুপচি থেকে৷ রুদ্ধশ্বাস এ উপন্যাসে সব রহস্য লুকিয়ে আছে বইটির পাতায় পাতায়৷

বিস্তারিত

মহাস্থানগড়ের অদূরে শান্তশিষ্ট নিস্তরঙ্গ মফস্বল শব্দলদীঘি৷ সে নির্জনতায় চির ধরিয়ে হয়ে গেল একটি খুন৷ সাধারণ ভ্যানচালক কিসলুর খুনের সে তদন্তে নেমে পড়লেন শখের গোয়েন্দা বৃদ্ধ মশিউর রহমান, সাথে তার সহকারী হাসান৷

হঠাৎ পাওয়া গেল রহস্যময় নিখোঁজ সংবাদ, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এক স্কুলছাত্রকে৷ রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে৷ শব্দলে নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা৷ সে অমানিশার মাঝ থেকেই ভেসে ওঠে আরেকটি লাশ৷

ভয়ানক ব্যাপারটা হচ্ছে বিকৃত এই লাশের দৈর্ঘ্য রীতিমতো বারো ফিট!

ওদিকে একটা চিরকুট আসে শ্যাডো সিক্রেট সার্ভিস চিফের কক্ষে৷ চিরকুটের পেছনে একটি চিহ্ন৷ চোখ কুঁচকে যায় চিফের৷ বিশ বছর আগের এক কাল্ট—নাইট অব দ্য ফলেন স্টার৷ তবে কি আবার ফিরে এসেছে ওরা?

বীভৎস অস্বাভাবিক লাশ, কাল্ট এবং সবার অগোচরে থাকা এক এক্সপেরিমেন্ট—সবকিছু মিশে যায় এক বিন্দুতে৷ ইতিহাস! বাংলার হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস৷ গল্পটা আমাদেরকে ঠিক কোথায় নিয়ে যাবে? ভয়ানক কোনো কানাগলিতে কি লুকিয়ে আছে দৈব কোনো শক্তি?

পাঠক, তাসিন আহমেদের “জিয়ৎ” আপনাদেরকে ঘুরিয়ে আনবে জমজমাট এক রহস্যের গলিঘুপচি থেকে৷ রুদ্ধশ্বাস এ উপন্যাসে সব রহস্য লুকিয়ে আছে বইটির পাতায় পাতায়৷

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

4 reviews for জিয়ৎ

  1. Rated 4 out of 5

    Nazia

    ।।।জিয়ৎ।।।

    প্রাচীন দুই লোককথা নতুন করে শুনবেন? নবীন লেখকের মুখে নতুন এক গল্প শুনতে মন্দ লাগবে না। জিয়ৎ কুন্ডের কথা জানেন কি? এমন এক কূপ – যার জলে আছে অমরত্বের গুনাবলি। রাজা পরশুরাম আর শাহ সুলতানের মধ্যকার যু দ্ধে যে কূপের অলৌকিকতার কথা উল্লেখ এসেছে বহুবার। সত্যি কি তাই? সবটাই কি লোককথা নাকি বাস্তব? লোককথা হলেও এই এক অমরত্বের উল্লেখ কেন আছে বহু জায়গায়? শুধুই কি মানুষের কৌতূহল? দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নেমেছিল কারা এবং কেন? এইটুকূ ইন্ট্রো থেকে চলে যাই বইয়ের মূল ঘটনায়। বলা বাহুল্য, মেলা চলাকালীন ‘জিয়ৎ’ এর প্রুফ দেখার গুরুদায়িত্ব আমাকেই সঁপে দেওয়া হয়েছিল। তবে রিভিউ লেখার খাতিরে আরো একবার বইটা হাতে নিতে হয়েছে। আরো একটিবার হারিয়ে যেতে হয়েছে শব্দলদীঘিতে। যদিও ‘জিয়ৎ’ তাসিন আহমেদের লেখা প্রথম বই তবে প্রথমকে এখানে ‘সূচনা’ হিসেবে ধরে আগানো যেতেই পারে।

    আমার চোখে বইয়ের মূল ঘটনা এগিয়েছে তিনটি খন্ড চিত্র মিলে। যার স্থান ভিন্ন হলেও লেখক শেষে এসে জুড়ে দিয়েছেন এক পাতায়। ইতিহাসকে যেমন টেনে এনেছেন তেমনি কাল্ট, শখের গোয়েন্দা টু বিজ্ঞানী – সবকিছুই খুব গোছানো ছিল।

    ঘটনা ১।
    মহাস্থানগড়ের শিবগঞ্জ উপজেলার শব্দলদীঘি; শান্তিপ্রিয় গ্রামের মধ্যে হঠাৎ করেই নেমে এসেছে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন। হঠাৎ করেই খু ন হলো, হারিয়ে গেল একটি ছেলে। এইটুকু অংশে আর আট-দশটা থ্রিলারের মতোই অনুভূতি ছিল। এই খু নের তদন্তে নেমে পড়ে এক শখের গোয়েন্দা; নাম মশিউর। শখের গোয়েন্দাকে এখানে বোমক্যাশ বা ফেলুদা ভাবার কারণ নেই। তার বুদ্ধি অতদূরের নয়। তবে কিভাবে যেন সমাধান পেয়ে যান।

    ঘটনা ২।
    অন্যদিকে, নাইট অফ দ্য ফলেনের আবির্ভাব।

    বিশ বছর আগের একটি গুপ্ত সংঘ; যারা ফিরে আসছে। ফিরে আসার পূর্বে পাঠিয়েছে একটি সতর্ক বার্তা। কিন্তু কি চায় তারা? শ্যাডো সিক্রেট এজেন্সীর উপর বর্তায় এই সংঘকে খুঁজে বের করার।

    ঘটনা ৩।
    শখের ইতিহাসবিদ সোলেমান সাহেবের দাবি ‘যাহা রটে,তাহা কিছু হলেও ঘটে।’ তবে কি সত্যিই আছে জিয়ৎ কূপ? আমেরিকা ফেরত বিজ্ঞানী জুবায়ের কিসের পেছনে ছুটে চলেছে? জুবায়েরের সাথে মরীচিকার পেছনে ছুটতে ছুটতে পাঠকের সামনে হয়ত আসবে এমন এক গল্প যা পুরো গল্পের মাথা ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য। কিংবা বলা চলে, আদর্শ ভালোবাসার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ মাত্র।

    🔸গল্প বলা ধরণ:

    থ্রিলার গল্পগুলো সবসময় একরোখা হয়। খু ন থেকে গোয়েন্দাগিরি থেকে ভিলেন সামনে। ‘জিয়ৎ’ সেই হিসেবে একটু ব্যতিক্রম তবে উষ্ণতার যে পারদ জিয়ৎ কুন্ডের জন্য উপরে উঠেছিল তা পুরোপুরি উঠতে না পারলেও যতটুকু পেরেছে তাতে আফসোস নেই। অন্তত বর্ণনাভঙ্গি আর শব্দচয়নের খাতিরে একবারের জন্যও মনে হয়নি এটি একজন নবীন লেখকের কাজ। তিনটা স্রোত দুটি স্থান এগিয়ে চলেছে সমানতালে। শুরুর দিকে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছিল। লেখক বাংলা সাহিত্যের এক জনপ্রিয় চরিত্রকে তুলে ধরেছিলেন গল্পের স্বার্থে। সেই স্বার্থ মাঝে এসে হারিয়ে গেলেও শেষে এসে ধরা দেয়। শুরুতে কৌতুহল জাগিয়ে মাঝে এসে গতিতে হালকা ব্রেক কষলেও দুই- তৃতীয়াংশ তে গিয়ে লেখক রোলার কোস্টার রাইডে চড়াতে সফল হয়েছেন।

    🔸রহস্যের ব্যবচ্ছেদ:

    শুরুতেই উল্লেখ করেছি লেখক কাল্টের ব্যবহার করেছেন। গল্পের স্বার্থে ব্যবহার করলেও তা অন্যান্য কমন প্লটের মতো আগায় নি। কাল্টের সাইডেই বলে গেছেন গল্প। এখানে ন্যারেটিভ সাইটটাই বেশি চোখে এসেছে। গল্প ভাসাতে কখনও কখনও বেগ পেতে হয়েছে তবে টুইস্টটা শেষ পর্যন্ত যাওয়ার আগে ধরা যায়নি। অতীতকে টেনে লেখক শুধু ব্যাকস্টোরির স্বার্থসিদ্ধি করেননি – বরং সময়ের সাথে সেটিকেই মূল স্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। আনপ্রেডিক্টেবলভাবে আবার দুটো ঘটনাই এক সুতোয় বাঁধা পড়ে।

    🔸 দুর্বলতা:

    জিয়ৎ কুন্ডকে গল্পের একটা ভিত্তিপ্রস্তর ধরা হলেও বইতে জিয়ৎ নিয়ে বলা গল্পটা খুব ছোট পরিসরের। আরেকটু ডিটেইলিং করলে আমার মনে হয় না পাঠক হিসেবে বিরক্তি আসত। তবে থ্রিলের সাথে ইতিহাসের সংমিশ্রণ অনেকাংশে মিলে না। আবার শ্যাডো এজেন্সী নিয়ে যতটুকু বর্ণনা দেওয়া হয়েছে ততটুকু মোর দ্যান এনাফ। তবে একটা সিক্রেট এজেন্সীর কাজের পরিসর নিয়ে আরেকটু জলঘোলা করার সুযোগ ছিল। কিন্তু লেখক তা করেননি। তিনি একটি সুন্দর এন্ডিং দিয়েছেন তবে কিছু দিক ধোঁয়াশা রেখে। তুলনা করে বললে ‘অবিনশ্বর’ এর মতোই লেখক এখানে শেষে এসে ক্লিফহ্যাঙ্গারে গল্প ঝুলিয়ে গেছেন। এখন এর দ্বিতীয় পার্ট আসবে কিনা তা কেবল সময়ের অপেক্ষা।

    সর্বপরি, পুরো গল্পটা দারুন উপভোগ্য ছিল। আমি প্রুফ দেখেছি বলে এক বিন্দু বাড়িয়ে বলছি না। যারা ভিন্ন স্বাদের দেশীয় থ্রিলার পড়তে চাচ্ছেন তাদের জন্য রেকমন্ডেড।

    🔸বানান, সম্পাদনা, প্রচ্ছদ ও প্রোডাকশন:

    তেমন বানান ভুল আমার চোখে পড়েনি তবে এক জায়গায় সম্ভবত ছাপার মিস্টেক ছিল। সম্পাদনা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। প্রোডাকশনের বেলায় বলব, ঋদ্ধের কাজ দিনদিন আরো ভালো হচ্ছে। তবে প্রচ্ছদ নিয়ে খানিকটা আক্ষেপ আছে। গল্পের সাথে মানানসই প্রচ্ছদ হবার পরেও কেন জানি তা আমাকে আকর্ষণ করেনি। পরে মনে হলে প্রচ্ছদে কিছু একটা মিসিং। নামলিপি এমবসিং করলে হয়ত সেই মিসিং জিনিস দূর হয়ে যেত। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।

    বই: জিয়ৎ
    লেখক: তাসিন আহমেদ
    প্রকাশনী: ঋদ্ধ প্রকাশ
    পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৬
    মুদ্রিত মূল্য: ৫৫০৳
    ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.২/৫

  2. Rated 4 out of 5

    Kazi Ahmed Yasin

    জিয়ৎ

    লেখকের প্রথম বই, আবার সেটা শুধু থ্রিলার নয়—তার সঙ্গে ইতিহাসেরও খানিকটা যোগ আছে। সেই সঙ্গে বইটা ৩৩৬ পৃষ্ঠার! সুতরাং বইটা পড়ার আগে বুক ধুকপুক করা একদম স্বাভাবিক।

    সেই দিক দিয়ে বলতে গেলে আমি একেবারেই ইমোশনলেস একটা মানুষ। ইমোশন না থাকার প্রধান কারণ হলো আমি ফিকশন বই খুব একটা পড়িই না। মানে, পড়ি কিন্তু অন্যরা যেভাবে একেবারে মাসে চারটা পাঁচটা করে বই শেষ করে, আমি কোনোমতে টেনেটুনে একটা-দুটো বই শেষ করি। আবার সিনেমা, ওয়েব সিরিজ—এগুলোও আমি দেখি না। সুতরাং আমি যাই পড়ি না কেন, আমার কাছে সেটাই নতুন লাগে।

    তাই টেনশন ফ্রি হয়ে বইটা পড়ছিলাম এবং বইটা শেষ করে আমার মন্তব্য হলো—ওয়াআআআআআও!!!

    সত্যি কথা বলতে কি, নতুন লেখকদের প্রতি আমার হালকা একটু দুর্বলতা আছে। নিজের লেখক হওয়ার অপূর্ণ বাসনার জন্যই হয়তো আমি নতুন লেখকদের বই একটু সিরিয়াসভাবে পড়ি। সেদিক দিয়ে বলতে গেলে আমার এটাই বিশ্বাস করতে অনেক কষ্ট হয়েছে যে এটা লেখকের প্রথম বই! জানি, এই কথা এর আগেও অনেকে বলেছেন, কিন্তু জিনিসটা আসলেই আশ্চর্যের।

    মহাস্থানগড় আমাদের বাঙালির কাছে ডাল-ভাত টাইপের একটা বিষয়। বিদেশি কন্সপিরেসি থ্রিলার পড়তে পড়তে আমাদের চোখ বড় বড় হয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু নিজের দেশের একটা ঐতিহাসিক স্থানকে কেন্দ্র করে একটা থ্রিলার যে লিখে ফেলা যায়—এটা এর আগে কেন মাথায় আসেনি তা কে জানে!

    হ্যাঁ হ্যাঁ, জানি, সিক্রেট সার্ভিস নিয়ে কথা আছে, কাহিনীর মধ্যে ব্যাপক টুইস্ট আছে, কাল্টের ব্যাপার স্যাপার আছে। কিন্তু সেগুলো ছাপিয়ে আমার কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে মহাস্থানগড়কে কেন্দ্র করে লেখা ব্যাপারটা। আমি জানি আমার কথা শিশুসুলভ শোনাবে, কিন্তু আপনারাই বলুন—মাত্র এই একটা কারণেই কি এই বইয়ের দেশি ফিলটা আরো বেড়ে যায়নি? ৯০% ক্ষেত্রে কোন থ্রিলার পড়লে মনে হয় বিদেশের কোন উপন্যাস পড়ছি। আপনাদের কারো কাছে মনে হয় কিনা জানি না, কিন্তু আমার কাছে ঠিকই মনে হয়। খুবই কম বই পড়েছি যেগুলোতে নিজের দেশের ফিলিং পেয়েছি। তার মধ্যে একটা হলো এই জিয়ৎ।

    কোথায়, কখন, কিভাবে স্পয়লার দিয়ে ফেলি—এই ভয়ে আমি কখনো বইয়ের কাহিনীর কথা উল্লেখ করি না। কিন্তু কয়েকজনের কাছে মৃদুমন্দ ঝাড়ি খাওয়ার পর হালকা একটু গল্পটা বলছি, যাতে আপনারা বুঝতে পারেন।

    বইটাতে একইসঙ্গে দুই জায়গায়—শব্দলদিঘী আর ঢাকায়—দুটো আলাদা আলাদা তদন্ত শুরু হয়। ঢাকায় দেখা যায়, ২০ বছর আগের একটা কাল্ট ফিরে এসেছে। তার জন্য সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা তদন্ত শুরু করে। আর শব্দলদিঘীতে দেখা যায় একজন ভ্যানচালক খু/ন হয়েছে। তাই শখের গোয়েন্দা মশিউর রহমান হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ফেলুদাগিরিতে নেমে পড়েন! এবং তারপর উঠে আসতে থাকে একের পর এক বিস্ময়। প্রত্যেকটা রহস্যের সুতো গিয়ে যুক্ত হয় ইতিহাসের একটা পাতায়, যেটা সুলেমান সাহেবের মতে আমাদের কাছ থেকে আড়াল রাখা হয়েছে।

    কাহিনীটা শুনতে ইন্টারেস্টিং লাগলো না? বইটা পড়লে আরো সুন্দর লাগবে। আমার কাছে বিশেষ করে ভালো লেগেছে ৩৪ নাম্বার অধ্যায়ে, যেখানে ফাহিম আর আকিব জিলান যেভাবে মশিউর রহমানের সঙ্গে পরিচিত হয় সেই জায়গাটা। আমি বুঝতে পারছিলাম যে দুইটা লাইনে গল্প চলছে, কিন্তু এভাবে যে দুটো মিল খেয়ে যাবে সেটা আগে বুঝতে পারিনি।

    আবার গল্পের ঐতিহাসিক অংশটাই ফিরে যাই। আপনাদেরকে চুপিচুপি একটা কথা বলে রাখি—বইয়ের যে অংশটায় মহাস্থানগড়ের কাহিনী বলা হয়েছে, সেই অংশটুকু পড়ে আমার কেন জানি না মনে হচ্ছিল এটা লেখকের নিজের লেখা নয়। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলতে পারবো না, কিন্তু একটা ফিলিং হচ্ছিল। পরে মুবিন ভাইয়ের কথাতে বুঝলাম আমার অনুমান ঠিক। এখানে লেখককে সাহায্য করেছেন সিদ্দিক আহমেদ ভাই। ওনাকে অবশ্য আমার ভাই বলে ডাকা উচিত না, কিন্তু এখন এমন একটা বয়সে আছি যে অন্য কিছু ডাকতেও সংশয়ে ভুগছি। তবে ইতিহাসের এই অংশটা আমার কাছে খুবই সুন্দর লেগেছে। সিদ্দিক ভাইকে এই জন্য পার্সোনালি আমি ধন্যবাদ জানালাম।

    বইয়ের ভেতরে অস্থির কিছু অ্যাকশন দৃশ্য ছিল। সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট ভার্সেস গুন্ডা দলের। সামনাসামনি দেখলে কি হতো বলা যায় না, কিন্তু পড়তে খুবই মজা লেগেছে।

    কিন্তু, কিন্তু, কিন্তু—আমার কথা এখনো শেষ হয়নি। কিছু এখনো বাকি আছে।

    ঋদ্ধ প্রকাশের পাঁচটা বই হাতে নিলে, তার মধ্যে তিনটা বইয়ের ভেতরেই হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলির নাম পাওয়া যাবে। আর দুটোর ভেতরে অবিনশ্বরতা রিলেটেড কোন একটা প্লট পাওয়া যাবেই যাবে!!! এটা অবশ্য আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। আপনাদের যদি এরকম মনে হয়, তাহলে কমেন্টে আমাকে জানিয়ে রাখতে পারেন।

    বিষয় সেটা না। বিষয়টা হচ্ছে—এই গল্পের শখের ডিটেকটিভ মানে মশিউর রহমান, উনার শেষের দিকের কিছু কাজ আমার কাছে বড়ই অতিপ্রাকৃতিক লেগেছে। পুলিশরা যেখানে কোন তথ্য খুঁজে পাচ্ছে না, উনি তার আগে শুধুমাত্র হাসানের মোটরসাইকেলের পেছনে বসে সিক্রেট সার্ভিসকে তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন—অমুক ওই জায়গায় গিয়েছে, তমুক সেই জায়গায় রয়েছে। এটা আমার কাছে একটু অবাস্তব টাইপের লেগেছে।

    আরেকজনের ব্যাপারেও কথা বলা দরকার, সে হলো অন্তু। হ্যাঁ, সে খুবই বুদ্ধিমান একটা ছেলে। এবং এতক্ষণ ধরে ওদেরকে যেভাবে নাকানিচোবানি খাওয়াচ্ছিল, সেটা আসলেই প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু কথা হচ্ছে, ওর যে আইডিওলজি সেটার মধ্যে বেশ খানিকটা গণ্ডগোল আছে। এখন এখানে দুইটা ব্যাপার ঘুরতে পারে—হয়তো লেখক ইচ্ছাকৃত এই গণ্ডগোলটা রেখেছেন যাতে আমরা অন্তুকে সম্পূর্ণ মেনে না নিই, আবার হতে পারে যে অন্তুর ক্যারেক্টারটা হয়তো এরকমই থেকে গেছে। লজিক্যালি ওর বোনের পরিণতির জন্য সিস্টেমের দোষ ছিল না, এবং সমাজেরও কোনো দোষ ছিল না। ওর বোনের মৃত্যুর পরবর্তী ঘটনার জন্য বা বলা যেতে পারে ওর পরিণতির জন্য, সমাজের হয়তো দায় থাকতে পারে। কিন্তু ওর বোনের মৃত্যু তো হয়েছে কামাল সাহেবের জন্য। সুতরাং অন্তুর উচিত ছিল সবার আগে কামাল সাহেবকে অফিসের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া।

    এবং এখানেই লেখকের আরেকটা মুন্সিয়ানা ফুটে উঠেছে। সেটা হলো—গল্পে একজন ম্যানিপুলেটরের আগমন ঘটিয়েছেন, প্রাক্তন এনএসআই এজেন্ট যার মৃত্যু হয়েছে আগুনে পুড়ে। এই লোকটার ক্যারেক্টারটা আসলেই ইন্টারেস্টিং। অন্তুর মতো একটা ছেলেকে যে ম্যানিপুলেট করতে পারে, সে যে আরো কত ভয়ংকর কাজ করতে পারে সেটা বলাই বাহুল্য।

    শুনেছি বইটার নাকি সিকুয়েল আসবে। আমি আশা রাখি পরবর্তী সিকুয়েল জিয়ৎ এর চাইতেও বেশি জমজমাট হবে।

  3. Rated 4 out of 5

    আভা নূর

    Experiment, জিয়ৎকুন্ড, নাইট অফ দ্য
    ফলেন স্টার — অমরত্ব — জিয়ৎ — অমরত্বে
    সন্ধান!!!!

    প্রত্ননিদর্শনের প্রাচীণ নগরীর প্রাচীণ ইতিহাস, খুন, অপহরণ,মিথ,অকাল্টটিজম ও এ্যাকশন থ্রিলারে নব ধারা সূচিত হয়েছে নব এক পান্ডুলিপিতে। উক্ত পান্ডুলিপিটির মোড়ক উন্মোচিত করতে চলুন তবে ঘুরে আসা হোক প্রাচীণ বাংলার রাজধানী মহাস্থানগড় সহ আরো রহস্যমন্ডিত রহস্যময় রহস্যের পথে। হারিিি আপপ! সফরের এই ট্রেন কিন্তু ছেড়ে দিচ্ছে! ”

    ——————————-

    ফ্রান্সিস বুকানন হ্যামিলটন ১৮০৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম মহাস্থানগড়ের অবস্থান চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেক্সান্ডার কানিংহাম প্রাচীণ এই ঐতিহাসিক নগরীকে পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী হিসেবে চিহ্নিত করলে বিষয়টা লোকারণ্যে পর্যায়ক্রমে সাড়া ফেলে । এছাড়াও মৌর্য সম্রাট অশোকের একটি শিলালিপি ও চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং – এর বর্ণনায় পুন্ড্রনগরের কথা উল্লেখ রয়েছে।

    বাসার পাশে অনতিদূরে মহাস্থানগড় অবস্থিত। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে অন্যজেলা সহ সদূর প্রবাস থেকে আগত পর্যটকরা এখানের ইতিহাস -সংস্কৃতি পরিদর্শন করে যাচ্ছে আর আমি বাড়ির পাশের হয়েও খবর নাই!! সে যাই হোক, আপনাদের জন্য গুপ্ত একটা কথা শেয়ার করি। বইয়ের পাতায় আপনারা যে মহাস্থান গড়ের ছবি দেখে মহাস্থান সফরে আসেন আপনারা কি জানেন ওইটা আসলে মহাস্থানগড় না!!!

    কি চমকে গেলেন তো? চমকে যাওয়াই অবশ্য স্বাভাবিক। পুস্তানির পাতায় মেথ তথা গোকুলে অবস্থিত বেহুলা লক্ষীন্দরের বাসরঘরকে মহাস্থানগড় বলে বিবেচিত করে বইয়ে ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মহাস্থান গড়ের আসল লোকেশন হচ্ছে শাহ হযরত সুলতান বলখীর মাজারের বাম সাইডের বাজার পেরিয়ে যে বিস্তৃত জায়গাতে গাড়ি পার্ক করা হয় ওইটা। সুলতান বলখী যে মাছের পিঠে চড়াই হয়ে মহাস্থান গড়ে এসেছিলো সে কথা আমি অবশ্য বলতে পারলাম না। তবে আমরা নানুর মুখে শুনেছি শাহ বলখী মহাস্থানগড়ে এসেছিলেন ধর্মপ্রচারে। রাজা পরশুরামের রাজ্যের কোনো এক প্রজার জায়গায় তিনি নামায পড়ার জন্য সোয়া হাত জায়গা চেয়ে নিয়ে নামাযে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু অলৌকিক শক্তিবল তথা আল্লাহর রহমতে শাহ বলখীর নামাযের জায়গা প্রসস্ত হতে শুরু করে যা ওই প্রজার চোখে পড়ে যায়। আর এরই পরে সংঘটিত হয় রাজা পরশুরাম ও শাহ বলখীর যুদ্ধ। এই যুদ্ধ নিয়েও অবিশ্বাস্য সব কাহিনী আছে যার পরিধিতে জিয়ৎকুন্ড ও সীমাবদ্ধ। উক্ত যুদ্ধে রাজা পরশুরামের পরাজয় অবধারিত মুহূর্তে করতোয়া নদীতে পরশুরামের কন্যা শিলাদেবী আত্নহত্যা করে। এই হিসেবেই শিলাদেবীর ঘাট নামকরণে হিন্দু ধর্মের লোকজন ওই জায়গায় গিয়ে পূজা নিবেদন করে।

    উপযুক্ত কাহিনীর খন্ডাংশ ছাড়াও উক্ত নগরীকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে অহরহ ইতিহাস। যে ইতিহাসের পাতা এখনো পালাক্রমে ধাবমান হচ্ছে ভবিষ্যতের পথে। মহাস্থানগড়ের সমৃদ্ধ ইতিহাসে উপর নজর আপতিত করলে বেহুলা -লক্ষীন্দরের বাসর ঘরের ইতিহাস, গোবিন্দ ভিটা ,খোদার পাথর ভিটা সহ আরো সব পুরান ইতিহাসের নান্দনিক ধারা দেখতে পাওয়া যায়। ইতিহাস তবে বইয়ের পাতায় থাক এইবার আমরা ধাবমান হই জিয়ৎের পাতায়,,, ।

    ——————–
    কাহিনী পটভূমি :
    °°°°°°°°°°°°°°°°°

    জিয়ৎ বইটিকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে হিস্ট্রি, মিথ,অকাল্টটিজম ও এ্যাকশন থ্রিলারের সমারোহে। বইটির কাহিনী বর্ণিত হয়েছে কিছু মেইন চরিএকে কেন্দ্র করে। চরিএগুলো হলো শখের বশে ডিটেকটিভ হওয়া বৃদ্ধ মশিউর রহমান, হাসান, এনএসইউ এর স্প্লিনটার সেলের এসকিউ চিফ শেখ কালাম উদ্দিন ও তার আন্ডারে রহিত কিছু চৌকস অফিসার। শব্দলদিঘী গ্রামে চলা ভয়াল সব ঘটনা, শহরে চলা ত্রাশ, হঠাৎ একটা খুন, লাশের দৈর্ঘ্য বারো ফুট!! এইসব খুনের পেছনে জড়িত একটি সংস্থা। যেটির নাম — নাইট অফ দ্য ফলেন স্টার।

    বিভৎস অস্বাভাবিক মৃত্যু ও রহস্য, সবার অগোচরে চলা কোনো গোপন সংগঠন, বাংলার সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং দৈবশক্তি খোঁজার প্রচেষ্ঠা , এই সবকিছুর সংমিশ্রণেই গড়ে উঠেছে জিয়ৎ। ইতিহাসের পাতা তবে ফিরছে হাজার বছর আগে রেখে আসা ইতিহাসে? সেখানে মিলবে জিয়ৎের প্রীচীনত্ব ও লোক্যকথ্য। ইতিহাস তো ফিরছে আপনি ও কি ফিরছেন তবে???

    ———————–
    পাঠপ্রতিক্রিয়া :
    °°°°°°°°°°°°°°°°°

    নিজ শহরের ঐতিহ্য ও অতিপ্রাকৃতের সংমিশ্রণের খোঁজে জিয়ৎের পাতায় ডুব দিয়েছিলাম।বইটির প্রতিটি পাতা রহস্যের গাঁথুনি, টান টান উওেজনা আর দারুণ দারুন সব টুইস্টে ভরপুর। পুস্তানিটিতে মহাস্থানগড়ের এতিহ্যবাহী স্থানগুলোর ইতিহাস সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে । কাহিনীর বুনন ও যথেষ্ঠ ভালো। বইটি পড়াকালীন নিজের মধ্য বিরক্তিকর ভাব খুঁজে পাইনি। কিন্তু মশিউর রহমানের এন্ট্রি যেভাবে হয়েছিলো পরবর্তী তে তাকে নিষ্ক্রিয় ভাবে সাইড ক্যারেক্টারে দেখা গেছে। মশিউর রহমানের জায়গায় হাসনকে রিপ্লেস করা হইছে।যেইটা মনে হয় এন্ট্রির শুরুতে দিলেই ভালো হতো। অপরদিকে চিফের ক্ষেএে ও সেইম মতামত। এছাড়া আর সব ঠিকঠাক। লেখক তাসিন আহমেদের এইটাই প্রথম থ্রিলার উপন্যাস । প্রথম হিসেবে নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় একটি লেখনী ছিলো। ও হ্যাঁ আরেকটি কথা, হুমায়ুন আহমেদের মিসির আলি চরিএকে আপনাদের মনে আছে? জিয়ৎের পাতায় কিন্তু মিসির আলির ও আংশিক দেখা মিলবে। তো সর্বশেষ, বইটি যারা কিনবেন ভাবছেন আপনারা দ্রুত কিনে ফেলুন। আর যাই হোক ঠকবেন না এক্কেবারে পয়সা উসুল ডিল।

    —————————–
    প্রকাশনীর উদ্দেশ্যে :
    °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

    বানান কিছু জায়গায় ভুল ছিলো। ব্যাপারটা আরেকটু সামআপ করলে এইসব ভুল শোধরানো যাইতো (পার্সোনাল ওপিনিয়ন)। যদিও এই ভুলের সংখ্যা অতি নগন্য। প্যাকেজিং আর প্রচ্ছদ সুন্দর ছিলো। মোট মিলিয়ে জিয়ৎের সাথে চমকপ্রদ একটা যাএা ছিলো। লেখক ও প্রকাশনীকে ধন্যবাদ আমার শহরের ইতিহাসের সাথে পুনরায় আমাকে মিলিয়ে দেওয়ার জন্য।

    আমার সাথে আপনাদের এই স্বল্পদীর্ঘের ট্রেনযাএা শেষ । অনুগ্রহ করে নেমে পড়ুন। বাড়ি ফিরুন। আপনাদের বাড়ি ফেরার যাএা সুন্দর হোক, জিয়ৎের পাতা থেকে বিদায়। ভালো থাকবেন।

  4. Rated 5 out of 5

    Md. Hasibur Rahman

    বগুড়ার ছাওয়াল হিসেবে মহাস্থানগড়ের ইতিহাস ছোটবেলা থাইকাই মগজের ভিতর ঘুরপাক খায়। কিন্তু সেই ইতিহাসরে পুঁজি কইরা কেউ যে এমন হাড়হিম করা একখান থ্রিলার নামায়ে ফেলবে, সেইটা পড়ার আগে কল্পনাও করি নাই। তিনশত ছত্রিশ পৃষ্ঠার এই প্রমাণ সাইজের বইটা একবার হাতে নেওয়ার পর শেষ না কইরা ওঠা আমার জন্য দায় ছিল আসলে।

    ​গল্পের শুরুটা হইছে এক্কেবারে বাড়ির কাছের ‘শব্দলদীঘি’ গ্রাম দিয়া। এক ভ্যানচালকের খুন আর এক ছাওয়ালের নিখোঁজ হওয়া এমনিতেই গ্রাম্য মফস্বলে এসব নিয়া প্যাঁচালের অভাব থাকে না। কিন্তু যখন পড়লাম নদীতে ১২ ফুটের একখান দানবীয় লাশ পাওয়া গেছে, তখনই বুঝলাম কাহিনী অত সোজা না। লেখক সাহেব খুব কায়দা কইরা জিয়ৎকুণ্ডের সেই হাজার বছরের পুরান অমরত্বের মিথরে টাইনা আনছেন বর্তমান সময়ে। যার সাথে যুক্ত হইছে ‘নাইট অফ দ্য ফলেন স্টার’ নামের এক ভয়ংকর কাল্ট।

    ​বইটা পড়ার সময় সবচেয়ে বেশি যা ভালো লাগছে, তা হইলো কাহিনীর ক্যারেক্টারগুলান। শখের গোয়েন্দা মশিউর রহমান আর তার সহকারী হাসানের রসায়নটা বেশ জইমা উঠছে। যদিও মশিউর সাহেবরে পরে একটু সাইডলাইনে দেখা গেছে, কিন্তু তার এন্ট্রিটা ছিল জম্পেশ। অন্যদিকে শ্যাডো চিফ এসকেউ আর এজেন্ট ফারাবি-আকিবের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া গল্পের গতি এক মুহূর্তের জন্যও কমতে দেয় নাই।

    লেখক যেভাবে মহাস্থানগড়, বেহুলা-লক্ষীন্দরের বাসর ঘর আর শিলাদেবীর ঘাটের বর্ণনা দিছেন, মনে হইছিল আমি নিজেই সাক্ষাৎ উপস্থিত। অবশ্য এইসব জায়গায় কয়েকবার করে যাওয়ার সুযোগ হইছে জীবনে, তাই ব্যাপারগুলান আমার জন্য রিলেট করতে অসুবিধা হয় নাই।

    বিশেষ করে অমরত্বের নেশায় বুঁদ হওয়া সেই কাল্ট মেম্বারদের রহস্যময় আচরণ আর তাদের সেই ‘লুসিফার’ প্রীতি পড়ার সময় গায়ের লোম খাড়া হয়া গেছিল।

    ​বইটাতে কিছু জায়গায় বানান ভুল কিংবা একটু বেশি নাটকীয় অ্যাকশন সিন হয়তবা আছে, কিন্তু গল্পের বুনন এতোটাই টাইট যে পড়ার সময় এসব নস্যি মনে হইছে।

    ৩৩৬ পৃষ্ঠার এই বিশাল বইটা শেষ করতে আমার একদমই বেগ পাইতে হয় নাই। বরং যতই আগায়ে যাইতেছিলাম, মনে হচ্ছিল ‘মইরা কি কেউ সত্যিই জিন্দা হয়?’ – এই উত্তর খোঁজার এক তীব্র তাড়না আমারে পুরাই অস্থির কইরা তুলছিল।

    ​সবশেষে এইটাই কমু, যারা থ্রিলার ভালোবাসেন আর মিথোলজি নিয়া একটু আধটু চুলকানি আছে, তারা ‘জিয়ৎ’ হাতছাড়া কইরেন না। তাসিন আহমেদ যেইভাবে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সাথে আমাদের দেশি মাটির গন্ধ মাখায়ছেন, তাতে একবার এই বইখানা পড়া শুরু করলে এই ‘রহস্যের মায়াজাল’ শেষ পর্যন্ত কই গিয়া ঠেকছে আর সেই ১২ ফুটের লাশের রহস্য আসলে কী ছিল, এইসব কৌতূহল না মিটায়ে থামতে পারবেন না।

    ​রিভিউয়ের ইতি টানলাম আমার চেনা শহরের এক অজানা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। লেখকের জন্য শুভকামনা রইলো।

Add a review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একই রকম আরো কিছু বই
Shopping Cart
Scroll to Top