ড্যান ব্রাউন
দ্য সিক্রেট অব সিক্রেটস
Available Book Type

Paper Book

Book Info:
লেখক: ………………..ড্যান ব্রাউন
অনুবাদ: ……………….সালেহ আহমেদ মুবিন, কাবিদ হাসান
ফরম্যাট: ……………..Hardcover
প্রকাশকাল: ………….2026
পৃষ্ঠা: …………………….৭০৪
ভাষা: ……………………Bangla
দ্য সিক্রেট অব সিক্রেটস
ড্যান ব্রাউন
অনুবাদ:সালেহ আহমেদ মুবিন, কাবিদ হাসান
Rated 5.00 out of 5 based on 1 customer rating
(1 customer review)

৳  900.00

ড্যান ব্রাউনের রবার্ট ল্যাংডন সিরিজের আরেকখানা দুর্ধর্ষ রোমাঞ্চকর যাত্রা৷  ঋদ্ধ প্রকাশের সচিত্র কালেক্টিবল এডিশনে পাচ্ছেন—

—সেরা অনুবাদ

—৮০+ প্রাসঙ্গিক ইলাস্ট্রেশন

—বারোটি ভিউ কার্ড ফ্রি

—বাক্স ফ্রি

—রঙিন ম্যাপ এবং পুস্তানি

—দুটো বুকমার্ক ফ্রি

—লেখকের সাক্ষাৎকারে গল্পের পেছনের গল্প

বিস্তারিত

খ্যাতিমান নোয়েটিক বিজ্ঞানী ক্যাথরিন সলোমনকে আমন্ত্রণ জানানো হলো প্রাগে, গেস্ট স্পিকার হিসেবে বক্তৃতা দিতে হবে তাকে। মানব চেতনা সম্পর্কে যুগান্তকারী ধারণা নিয়ে এসেছে সে। এতে করে পালটে যাবে মানব চেতনার পুরো ধারণাটাই। থিওরিটি নিয়ে একইসঙ্গে একটি বইও লিখছে এই বিজ্ঞানী।

তার সফরসঙ্গী হলো হার্ভার্ডের রিলিজিয়ন সিম্বলজির প্রফেসর রবার্ট ল্যাংডন। দুজন মিলে উপস্থিত হলো শত চূড়ার শহর প্রাগে।

বিপত্তি বাঁধল তখন, যখন রাতের এক দুঃস্বপ্ন বাস্তব হয়ে উপস্থিত হলো ল্যাংডনের সামনে। আতঙ্কিত হয়ে ল্যাংডন আবিষ্কার করল–কোনো চিহ্ন না রেখেই উধাও হয়ে গেছে ক্যাথরিন সলোমন। একই সঙ্গে হারিয়ে গেছে তার পাণ্ডুলিপির সব কপি। পাণ্ডুলিপিটি ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজানা কিন্তু প্রচণ্ড ক্ষমতাধর এক শক্তি।

এরই মাঝে হয়ে গেল একটি খুন৷ অন্ধকার অতীত থেকে উঠে আসা এক অদৃশ্য ছায়া যে তাড়া করে ফিরছে ল্যাংডনকে, তা সে বুঝতেও পারল না। তাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে প্রাগ শহর জুড়ে। কিন্তু শুধু পালিয়ে বেড়ালেই চলবে না, সেই অজানা শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে উদ্ধার করতে হবে প্রিয়তমা নারীকেও। দুর্জ্ঞেয় এই রহস্যের আবরণ উন্মোচন করতে ল্যাংডনকে একের পর এক জোড়া দিতে হচ্ছে পাজলের টুকরো।

সে কি পারবে ক্যাথরিন সলোমনকে খুঁজে বের করতে? কিংবদন্তির পাতা থেকে উঠে আসা রহস্যময় দানব গোলেমই বা কেন পিছু নিয়েছে ওদের? সব সমীকরণ যখন এক বিন্দুতে মিলবে, উন্মোচিত হওয়া সত্যটা ঠিক কতটা বাস্তব হবে? নাকি সৃষ্টি করবে আরেক রহস্যময় গোলকধাঁধার?

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

1 review for দ্য সিক্রেট অব সিক্রেটস

  1. Rated 5 out of 5

    মহিউদ্দিন মোহাম্মাদ যুনাইদ

    অবশেষে পড়া শেষ করলাম এই বছরের আলোচিত উপন্যাস ড্যান ব্রাউনের ‘সিক্রেট অব সিক্রেটস’। ঋদ্ধ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত, সালেহ আহমেদ মুবিন ও কাবিদ হাসানের অনুবাদ। এটাই এ প্রকাশনী থেকে আমার কেনা প্রথম বই। ৭০৪ পৃষ্ঠার বইটি বিশাল আকারের। মোট পর্ব আছে উপসংহার সহ ১৪০টি। শেষে লেখকের একটি সাক্ষাৎকার বঙ্গানুবাদ আকারে দেওয়া আছে।
    অনুবাদের মান:
    এই বইয়ের অনুবাদ পড়তে যেয়ে আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। এত বিশাল আকারের একটা বইয়ের অনুবাদ প্রায় প্রাঞ্জল, সাবলীল ও মসৃণ লেখা মনে হয়েছে। প্রায় বেশিরভাগ পৃষ্ঠাই পাঠক পড়ার সময় মনে করবে না যে এটা কোনো অনুবাদের বই। ড্যান ব্রাউনের বইগুলো অন্যান্য লেখকদের তুলনায় অনুবাদ করা অত্যন্ত কঠিন। যারা এই লেখকের অনুবাদের কাজ আগে করেছেন, তারাই জানেন এটি কতটা কঠিন হতে পারে তার লেখার স্পিড ও ফ্লো ধরে রেখে সাবলীল অনুবাদ করে যাওয়া। লেখায় থাকে দ্রুতগতি এবং তার সাথে অভিনব আশ্চর্যজনক সব তথ্য সংশ্লিষ্ট থাকে, যা একই সাথে অনুবাদের মাঝে মিশিয়ে দিতে হয়। এই দুজন অনুবাদককে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই নতুন নতুন তথ্যগুলোকে পাদটিকা হিসাবে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নিচের দিকে দিয়ে দেওয়ার জন্য। অনেকগুলো তথ্যই আমি পাদটিকা থেকে পড়ে জেনেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে এগুলো বইটা একটানা পড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
    এই দুজন অনুবাদকের এটাই আমার প্রথম পড়া বই। সাধারণত অনুবাদের বই কেনার সময় আমি যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করি। এর আগে বেশ কিছু অনুবাদের বই কেনার পরে সেটা কিছুদূর পড়ার পরে আর পড়তে ইচ্ছে করেনি অনুবাদের মানের কারণে। আজকাল অহরহ অনুবাদের জন্য এআই ব্যবহার করা হয়। এআই ব্যবহার করা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই, এটি অনুবাদের কাজকে আরো তাড়াতাড়ি শেষ করতে সাহায্য করে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এআই অনুবাদ করানোর পরে একজন অনুবাদককে সেটা আবার লাইন বাই লাইন পড়ে ঠিক করে দিতে হয়। এআই অনুবাদ কখনোই পুরোপুরি হিউমান অনুবাদের মতো হয় না। অনেকগুলো অনুবাদের বইয়ের ক্ষেত্রে আমি দেখেছি যে অনুবাদকরা এই কষ্টসাধ্য কাজটা করতে চান না, যে কারণে পড়ার সময় কিছু জায়গায় রীতিমতো কাঠ-খোট্টা লাগে অনুবাদ। তবে এই বইয়ের অনুবাদ পড়তে যেয়ে আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। দুজন লেখক আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন অনুবাদের মান প্রথম থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত একইভাবে ধরে রাখতে। সামান্য কিছু বাক্যে ‘ও’ ও ‘সে’ এর অদলবদল ছাড়া অনুবাদের কাজ সত্যিই ভালো হয়েছে। সম্প্রতি আমি নিজেও একটি বইয়ের অনুবাদের কাজ শেষ করেছি। সেজন্য কাজটি সম্পর্কে আমি যথেষ্ট ভালোভাবে অনুভব করতে পেরেছি কতটুকু কষ্ট দুজন অনুবাদক করেছেন এই বইয়ে।
    (রিভিউ বড় হয়ে যাবে দেখে আমি এখানে কাহিনী সংক্ষেপটা দিলাম না, শুধু রিভিউ বা পাঠ-প্রতিক্রিয়া দিলাম)
    চরিত্র বিশ্লেষণ:
    কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে রবার্ট ল্যাংডনের তুলনায় ক্যাথারিন সলোমনকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। ল্যাংডনের উপস্থিতি বা মাথা খাটানো বিশ্লেষণ, যা সাধারণত এই লেখকের কাছে পাঠকরা আশা করেন, তা এখানে যথেষ্ট অনুপস্থিত মনে হয়েছে। শুধুমাত্র জেসনারের একটা পাসওয়ার্ড বের করার ক্ষেত্রেই তাকে এই অভাবনীয় ক্ষমতা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। পড়ার সময় বারবার মনে হয়েছে এখানে ল্যাংডন যুক্ত হয়েছে মূলত ক্যাথরিনের সাথে তার ঘনিষ্ঠতার কারণে, তার পেশাগত পরিচয়ের জন্য নয়।
    সাশা ভেসনার চরিত্রকে শেষের দিকে মনে হয়েছে টেনে অযথাই বড় করা হয়েছে যেটার আদতে কোনো দরকার ছিল না। মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারের নামে গোলেম ও সাশাকে একই চরিত্র দেখানো হয়েছে। গোলেম চরিত্রকে এমন কিছু কাজ করতে দেখা গিয়েছে কিংবা এমন সব জ্ঞানের অধিকারি হতে দেখা গিয়েছে যেটা সাশার পক্ষে জানা কোনোভাবেই সম্ভব না। খুব ছোটবেলায় সাশাকে বাসা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় যার কারণে অল্প বয়স্ক মেয়েটি শিক্ষালাভের সুযোগ থেকে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। মাটির অভ্যন্তরে থ্রেসহোল্ডের অফিসে গোলেমকে এমন সব বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ, কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন দেখানো হয়েছে যেটা আদতে এই চরিত্রে প্রশ্নবিদ্ধ।
    সি আই এর গোয়েন্দা অফিসার ফিঞ্চ, তাকে আঞ্চলিক প্রধান হিসেবেও দেখানো হয়েছে যার মূল দায়িত্ব ছিল থ্রেসহোল্ডকে বাস্তবায়ন করা। তাকে যতটুক প্রফেশনাল, সতর্ক ও ধূর্ত শুরুতে দেখানো হয়েছে, তার তুলনায় তার পরিণতির ক্ষেত্রে সেটা মানা হয়নি । সম্পূর্ণ পরিস্থিতি উপলব্ধি করার পরেও একা থ্রেসহোল্ডের ভেতরে নিজেই অ্যাকশনে যাওয়া কিছুটা অস্বস্তিকর লেগেছে, কেননা তার চরিত্রকে খুবই ক্যালকুলেটিভ দেখানো হয়েছে । পেঙ্গুইন রানডম হাউসে সামান্য একজন প্রকাশককে ধরার জন্য যে উঁচু মাপের গোয়েন্দাদের পাঠানো হয়েছিল, আর এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তার নিজেই যাওয়াটা মানায়নি ।
    আমার নিজস্ব পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
    (এখন আমি যে মতামতটা দেবো সেটা সম্পূর্ণই একজন পাঠক হিসাবে আমার একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি, যা হয়তো অন্যকারোর সাথে মিল নাও হতে পারে। নিচের অংশের লেখার সাথে অনুবাদকদের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ তারা শুধুমাত্র মূল লেখকের লেখাকেই অনুবাদ করেছে এবং আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া মূল লেখকের লেখার উপরে করা হয়েছে!)
    এই উপন্যাসের নায়ক হিসেবে রবার্ট ল্যাংডনের যা করার কথা, তার সিম্বোলজি (symbology) দক্ষতার ব্যবহার, সেটা যেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই বইতে অনুপস্থিত পেলাম। আমি হতাশ হয়েছি যখন লেখক বইয়ের আকর্ষণীয় একটি কথোপকথনটি লেখেননি। রবার্ট ল্যাংডন কীভাবে গোলেমকে সিআইয়ের ও এমব্যাসির সাথে চুক্তিতে রাজি করিয়েছেন, তিনি সেটি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছেন। সেই কথোপকথনটি কীভাবে হয়েছিল তা জানতে আমি খুব আগ্রহী ছিলাম, কারণ গোলেমকে তিনি শক্তপোক্ত একটি চরিত্র দেখিয়েছেন যে নিজের সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই মানে না। এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি বাদ দেওয়ার কারণ কী?
    বইটি অতিরিক্ত দীর্ঘায়িত মনে হয়েছে। কাহিনীর গতি নোয়েটিক সায়েন্স নিয়ে বারবার অপ্রয়োজনীয় বিবরণ থামিয়ে দিয়েছে। বইয়ের থ্রিলিং আকর্ষন আরো বাড়ানোর জন্য নিবিড় সম্পাদনার প্রয়োজন ছিল মনে হয়েছে। ‘দ্য ভিঞ্চি কোড’ কিংবা ‘অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড ডেমন্স’ এর মতো এখানে সিম্বলজমের চমৎকার সব ধাঁধার সমাধানের অভাব বারবার চোখে পড়েছে। এই সিরিজের লেখা পাঠক পড়ে এটার জন্যই।
    থ্রেসহোল্ডের মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা সম্পূর্ণ একদিক থেকে অরক্ষিত, যে কারো প্রবেশের উপযুক্ত দেখানোটা কেমন যেন খারাপ ছাড়া মনে হয়েছে। আমেরিকা সরকার কিংবা গোয়েন্দা সিআইএ এত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সেখানে ইনভেস্ট করেছে আর সম্পূর্ণভাবে সেটা অরক্ষিত অবস্থায় রেখে দিয়েছে? রবার্ট জানে কোন দিক দিয়ে সেটি অরক্ষিত আছে আর সিআই সেটা জানে না? পার্শ্বর চরিত্র হেইডি নেগেল বইয়ের মাঝখানে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়ানো কিংবা সি আই এর পরিচালক জেডের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কিছুক্ষণ পরেই সম্পূর্ণ উল্টো সিদ্ধান্ত নেওয়া কেমন যেন বাংলা সিনেমার মতো মনে হয়েছে। বাংলা সিনেমায় যেভাবে শেষ দৃশ্যে পুলিশ এসে হাজির হয় অনেকটা সেরকম। শেষের অংশগুলোতে বেশিরভাগ চরিত্রগুলোতে কেন যেন জোড়াতালি দিয়ে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে মনে হয়েছে।
    সত্যি বলতে কি, উপন্যাসটি অনুমানযোগ্য মনে হয়েছে, উপন্যাসের কাহিনী বা প্লট আদতে খুব ছোট, উজির ক্যাপ্টেনের কিছু এ্যাকশন ছাড়া খলনায়কদের উপস্থিতি মোটেও আকর্ষনীয় ছিল না। সামান্য কিছু জায়গায় উজিদের এ্যাকশন ছাড়া তেমন কোনো থ্রিলিং এডভেঞ্চার দেখা যায়নি লেখায়। থ্রিলার হিসেবে চিন্তা করলে যথেষ্ট স্লো। অ্যাডভেঞ্চারের তুলনায় প্রাগের ইতিহাস, সংস্কৃতি, স্থাপত্য শিল্পগুলোর ব্যাপক ও বিস্তৃত বিবরণ দিতেই লেখককে বেশি আগ্রহী মনে হয়েছে তুলনামূলকভাবে। আগের বইগুলোর মতো লেখনিতে ড্যান ব্রাউনের লেখার আকর্ষনের জাদুর অভাব অনুভূত হয়েছে। লেখকের আগের বইয়ের তুলনায় এখানে রহস্যের সিম্বল এবং তার উদঘাটন জনিত তথ্যের উপস্থিতি যথেষ্ট কম। বেশিরভাগ পাঠকদের কাছেই মনে হতে পারে এখানে উত্তেজনা কম, অ্যাডভেঞ্চার বা থ্রিলার এক্সপেরিয়েন্স কম, কিন্তু ভ্রমণ কাহিনী অনেক বেশি যা অনেকের কাছেই সেটা বোরিং লাগতে পারে।
    উপন্যাসের প্লটের ক্লাইম্যাক্স শেষের অনেক আগেই হয়ে যায়, ফলে মূল রহস্য উন্মোচিত হয়ে যাওয়ার পরও শুধু কয়েকটা প্যারাগ্রাফ বাড়ানোর জন্য পাঠকের কাছে থেকে সেটা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। মূল চরিত্রগুলো একই কথা বারবার বলতে থাকে যা আগ্রহী পাঠকদের কাছে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি মনে হতে পারে। উপন্যাসের শেষের কিছু অংশ নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি থেকেই যায়। ১২৪ নাম্বার অধ্যায় থেকে লেখাটা অযথাই টেনে বড় করা হয়েছে মনে হয়েছে। সেখানে যতটা বিস্তৃতভাবে ঘটনা বর্ণনা করে উপন্যাসের উপসংহার টানা হয়েছে, সেটা সম্ভবত ইচ্ছা করলেই আরো ছোট করে দেয়া যেত। সেখানে টান টান উত্তেজনা প্রায় ছিলই না। থ্রিলার বইয়ের চাইতে প্রাগের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় নায়ক ও নায়িকার ঘুরে বেড়ানোর ভ্রমণ কাহিনী বেশি মনে হয়েছে।
    অত্যন্ত প্রত্যাশিত হওয়া সত্ত্বেও, উপন্যাসটি আমার প্রত্যাশা পূরণে কিছুটা ব্যর্থ হয়েছে। বইটি আমাকে আগের বইগুলোর মতো সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বইটা আগে প্রকাশিত ‘দ্য ভিঞ্চি কোড’ এবং ‘অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড ডেমন্স’ মতো আকর্ষণীয় ও উত্তেজনাপূর্ণ মনে হয়নি আমার কাছে। অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়তে বসেছিলাম এই বইটি! টানা ৭০৪ পৃষ্ঠা পড়ে শেষ করেছিলাম!
    প্রুফ রিডিং ও বাঁধাই ও অন্যান্য:
    প্রকাশনী বইটার পিছনে অনেক শ্রম দিয়েছে। হার্ড কাভার, অনেকগুলো পিকচার কার্ড সহ বইয়ের ভেতরেও অনেক ছবির ইলাস্ট্রেশন দেখলাম। ছাপাও খুব সুন্দর, ঝকঝকে পরিষ্কার। সাদাকালো ছবির ইলাস্ট্রেশন প্রায় বেশিরভাগ পর্বের শুরুতেই দেওয়া আছে, যা সেই পর্বের লেখার সাথে সম্পর্কিত। এই কনসেপ্ট ভালো লেগেছে। প্রাগ শহরের একটি ম্যাপও দেয়া আছে যেটি পড়ার সময় কাজে লেগেছে।
    প্রচ্ছদ সুন্দর হয়েছে, তবে প্রচ্ছদের লাল রং আরো উজ্জ্বল হলে বেশি সুন্দর লাগতো।
    বইয়ের বাঁধাই এত ভালো হয়েছে যে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। খুব সুন্দর করে বইটা বাঁধাই করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকবার পড়ার পরও আমি বইটার বাঁধাইয়ে কোনো সমস্যা দেখতে পেলাম না। বইয়ের কাগজের গুণগত মান খুব ভালো লেগেছে আমার কাছে। বাণিজ্যিক কোনো চিন্তা-ভাবনার চাইতে, পাঠকের কাছে ভালো একটি বই তুলে দেওয়ার আগ্রহী ছিল বেশি প্রকাশকের।
    পরিশেষ:
    আমি বইটা আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরির জন্য কিনেছি।‌ ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার জন্য এটা একটা চমৎকার বই। ‌ আমি ঋদ্ধ প্রকাশনীর এই বইয়ের প্রজেক্টের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এত সুন্দর একটা প্রোডাকশন বের করার জন্য।

Add a review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একই রকম আরো কিছু বই
Shopping Cart
Scroll to Top