আরমান কবির
ইরেবাস
Available Book Type

Paper Book

Book Info:
লেখক: ………………..আরমান কবির
ফরম্যাট: ……………..Hardcover
প্রকাশকাল: ………….২০২৫
পৃষ্ঠা: …………………….১২৮
ভাষা: ……………………বাংলা
ইরেবাস
আরমান কবির
Rated 4.00 out of 5 based on 1 customer rating
(1 customer review)

৳  350.00

 

সহস্র বছর ধরে একজন বেঁচে আছে এই ধরণীতে। আমার আপনার আশেপাশেই। আমাদের মতোই রক্ত মাংসের স্বাভাবিক মানুষ সে। কিন্তু মৃত্যু তাকে ছোঁয় না। তার পদতলে ধুলো উড়েছে ব্যাবিলন থেকে মিশর, ইরান থেকে আফ্রিকার। অন্ধকারের পয়গম্বর সে, ইশ্বরের শত্রু!

পৃথিবীতে কি তবে নেমে আসবে চির আঁধার? নাকি সবসময়ই এই অমানিশায় ছেয়ে ছিল ধরণী?

আরমান কবিরের ইরেবাস আপনাকে এবার নিয়ে যাবে ভয়ানক অন্ধকার এক জগতে। আপনি প্রস্তুত তো?

বিস্তারিত

আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির নাম তো শুনেছেন। তামাম পৃথিবীর তাবৎ ইতিহাসের তথ্য-প্রমাণ-দলিল জমা ছিল যেখানে। পুড়ে ছাই হয়ে গেল অকস্মাৎ, কার ইশারায়?

ইতিহাসে আগ্রহ আছে আর আর্ক অব কভনেন্টের নাম জানেন না, এ আবার কী করে হয়? কোথায় গায়েব হলো এই স্বর্গীয় সিন্দুক? এখানেই বা কার হাত?

আচ্ছা, জাকির কুরাইশির একাকী নিঃসঙ্গ জীবন আমূল পালটে গেল কেন হঠাৎ? মৃতদের জগত থেকে কি স্ত্রী সন্তান আবার ফিরে আসে কখনো? আসে না তো… নাকি আসে? কল্পনা আর বাস্তবতা মিলে মিশে একাকার জাকির কুরাইশির জীবনে… অস্পষ্ট, অনিশ্চিত, ভয়াবহ। কিন্তু কেন সে এর মাঝেই বেঁচে থাকতে চায়? এভাবে পারে কোনো স্বাভাবিক মানুষ টিকে থাকতে?

সহস্র বছর ধরে একজন বেঁচে আছে এই ধরণীতে। আমার আপনার আশেপাশেই। আমাদের মতোই রক্ত মাংসের স্বাভাবিক মানুষ সে। কিন্তু মৃত্যু তাকে ছোঁয় না। তার পদতলে ধুলো উড়েছে ব্যাবিলন থেকে মিশর, ইরান থেকে আফ্রিকার। অন্ধকারের পয়গম্বর সে, ইশ্বরের শত্রু!

পৃথিবীতে কি তবে নেমে আসবে চির আঁধার? নাকি সবসময়ই এই অমানিশায় ছেয়ে ছিল ধরণী?

আরমান কবিরের ইরেবাস আপনাকে এবার নিয়ে যাবে ভয়ানক অন্ধকার এক জগতে। আপনি প্রস্তুত তো?

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

1 review for ইরেবাস

  1. Rated 4 out of 5

    Nazia

    বই: ইরেবাস
    লেখক: আরমান কবির
    প্রকাশনী: ঋদ্ধ প্রকাশ
    জনরা: হরর
    পৃষ্টা সংখ্যা: ১২৮
    মূদ্রিত মূল্য: ৩৫০৳

    🔸নতুন কিছু খোঁজার সন্ধানে হাতে তুলে নিয়েছিলাম ‘ইরেবাস’। মেলার শুরু থেকেই এর নাম-ডাক ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। আমি সেই সুনামের সাথে গা ভাসিয়ে হাতে তুলে নেই বইখানা। বলা বাহুল্য যে, লেখক আরমান কবিরের লেখা নিয়ে আমার কোনো পূর্ব ধারণা নেই। লেখনীর ধরণ বা দু-চারখানা রিভিউ পড়ে দেখার অপেক্ষা করিনি। ঋদ্ধ প্রকাশের হাত ধরে আসছে শুনেই চোখ বন্ধ করে লিষ্টে টুকে নেই। প্রকাশনীর কন্টেন্ট নির্বাচনের ওপর এক প্রকার অন্ধ বিশ্বাস ছিল বলেই এই হঠকারিতা। অতঃপর ১২৮ পৃষ্ঠার ক্ষুদ্র বইখানা পড়ে শেষ করি। আরেকটা কারণ ছিল। সেটা হলো ‘হরর’ শব্দের উল্লেখ। ভিন্নমাত্রার হরর যেখানে ভয়ের সাথেও যোগ হয়েছে ইতিহাস; আর্ক অভ দ্য কভনেন্ট, আমাতিতি।

    🔸 ফ্ল্যাপ থেকে:

    আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির নাম তো শুনেছেন। তামাম পৃথিবীর তাবৎ ইতিহাসের তথ্য-প্রমাণ-দলিল জমা ছিল যেখানে। পুড়ে ছাই হয়ে গেল অকস্মাৎ, কার ইশারায়?

    ইতিহাসে আগ্রহ আছে আর আর্ক অব কভনেন্টের নাম জানেন না, এ আবার কী করে হয়? কোথায় গায়েব হলো এই স্বর্গীয় সিন্দুক? এখানেই বা কার হাত?

    আচ্ছা, জাকির কুরাইশির একাকী নিঃসঙ্গ জীবন আমূল পালটে গেল কেন হঠাৎ? মৃতদের জগত থেকে কি স্ত্রী সন্তান আবার ফিরে আসে কখনো? আসে না তো… নাকি আসে? কল্পনা আর বাস্তবতা মিলে মিশে একাকার জাকির কুরাইশির জীবনে… অস্পষ্ট, অনিশ্চিত, ভয়াবহ। কিন্তু কেন সে এর মাঝেই বেঁচে থাকতে চায়? এভাবে পারে কোনো স্বাভাবিক মানুষ টিকে থাকতে?

    সহস্র বছর ধরে একজন বেঁচে আছে এই ধরণীতে। আমার আপনার আশেপাশেই। আমাদের মতোই রক্ত মাংসের স্বাভাবিক মানুষ সে। কিন্তু মৃত্যু তাকে ছোঁয় না। তার পদতলে ধুলো উড়েছে ব্যাবিলন থেকে মিশর, ইরান থেকে আফ্রিকার। অন্ধকারের পয়গম্বর সে, ইশ্বরের শত্রু! পৃথিবীতে কি তবে নেমে আসবে চির আঁধার? নাকি সবসময়ই এই অমানিশায় ছেয়ে ছিল ধরণী?

    🔸পাঠ-প্রতিক্রিয়া:

    মৌলিকের মধ্যে সার্থক হরর গল্প কবে পড়েছি মনে নেই। ছোট পরিসরে হোক বা বড়–হরর শুনলেই আমার মনে জেগে উঠে অন্ধকার। অন্ধকারকে ঘিরেই মানুষের যত জল্পনা-কল্পনা। সেই অন্ধকার জগত নিয়েই আরমান কবির লিখে গেছেন ‘ইরেবাস’।

    কাহিনীর শুরুতেই দেখানো হয় নাজমুল কবীরকে; পেশায় একজন লেখক। ট্রু ক্রাইমের ওপর বই লিখার জন্য যিনি একটি ডায়েরি পড়তে ব্যস্ত। ডায়েরির মালিক জাকির কুরাইশি নামের ভদ্রলোক। ভদ্রলোকের স্ত্রী আর সন্তানের অকাল মৃ ত্যুর পর থেকেই এই ডায়েরি লেখা শুরু করেন। এখানে একটা অদ্ভুত বিষয় আছে। ভদ্রলোকের দাবী ছিল তিনি তার মৃ ত স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে পাচ্ছে। অধিক শোকে কাতর হয়ে দৃষ্টিভ্রম হয়েছে ভাবছেন? শুরুতে আমিও এমনটা ভেবেছিলাম। কিন্তু যতটা সহজ মনে হয়েছে বিষয়টা আরেকটু জটিল।

    আশ্চর্যের বিষয় আরো ছিল যে, ডায়েরি লেখার কিছুদিন পর ভদ্রলোক নিজেও সুই সাইড করেন। অর্ধপূর্ণ সেই ডায়েরিতে লেখা হয়েছিল তার স্ত্রী সন্তানের মৃ ত্যুর ঘটনা। অস্বাভাবিক এক ঘটনা। গা ছমছমে ব্যাপার ছিল কিন্তু ব্যাপারটা কি সেটা আড়ালে। মানে, অন্ধকার ঘরে বসে আমার মনে হচ্ছে পেছনে কেউ আছে কিন্তু আলো জ্বালালে সেই ভয়টা লুকিয়ে পড়ছে বারবার।

    সেই ভয়ের গোলক ধাঁধা সমাধান করতেই লেখক সাহেব সেই অর্ধপূর্ণ ঘটনাটার পেছনেই ছুটে যান। লেখক থেকে একজন ইনভেস্টিগেটরের যাত্রা। কিন্তু কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসে কেউটে। সেই কেউটে অনেকের কাছে কমন মনে হতে পারে। যেমন আমারও লেগেছে। বাংলাদেশকে এক পাশে রেখে পৃথিবী বাঁচাতে মাঠে নেমে পরা কিংবা বাইরের এক অপশক্তি; যার অস্তিত্ব হাজার বছর ধরে।

    📌প্রথম অর্ধেকাংশ:

    বইয়ের শুরুর দিক ইন্টারেস্টিং ছিল। যদিও অর্ধেকাংশ জুড়েই ছিল ডায়েরি। তবে পড়তে বোরিং লাগছিল না। লেখকের লেখনীর কারণেই হয়ত পড়ার আবহটা দারুন উপভোগ্য ছিল। ডায়েরি পড়াকালীন জাকির সাহেবের জায়গায় নিজেকেই কল্পনা করতে পারছিলাম। ভয়ের এলিমেন্টের সাথে সাদা-কালো ইলাস্ট্রেশন–এটা জমে ক্ষীর হতে বাধ্য।

    📌শেষের অর্ধেকাংশ:

    এবার আসি শেষের অর্ধেকাংশ নিয়ে। এই অংশটা আমার কাছে খুব তাড়াহুড়ো করে শেষ হয়েছে বলে মনে হয়েছে। উপন্যাসিকার বেলায় ইতি টানা সহজ না, কারণ সেখানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে হয়। খল চরিত্র এবং তার সহযোগীর বেলায় এই দিকটা সঠিক। খল চরিত্র দাঁড় করাতে যে ঘটনাগুলো ব্যাখ্যা দেখানো হয়েছে সেগুলোর সাথে ব্যাকস্টোরি এড করলে হয়ত কল্পনার জগত আরেকটু প্রসারিত হতো। বিশেষত আর্ক অভ দ্য কভনেন্টের দিকটা। এখানে চাইলেই একটা ব্যাকস্টোরি দাঁড় করানো যেত অনায়াসে। সেক্ষেত্রে ‘উপন্যাসিকা’ টাইটেল ভেঙে হয়ে যেত ‘উপন্যাস’। জাকির সাহেবের ছেলে টুকুর মৃ ত্যু র দিকটাও পরিষ্কার ছিল না। স্যাটিসফেকটরি রিজন লেখক দেখাননি। শুরুতে ডায়েরিতে উল্লেখিত সময়ের সাথে একটা ঘটনা তালগোল পাকিয়েছে বলে মনে হয়েছে। এক্ষেত্রে আরেকটু সচেতন থাকা উচিত ছিল। সত্যি বলতে, এন্ডিং নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী ছিলাম কিন্তু সেখানে হতাশা কাজ করেছে।

    📌পজিটিভ দিক:

    পজিটিভ দিক নিয়ে বললে বলতে হয় লেখক খুব প্রমিজিং। হরর জনরাটা খুব সহজ না। প্লট নির্বাচন ভালো হলেই হয় না– প্লটের সাথে গল্পের সিকুয়েন্সের ধারাবাহিকতা রাখতে হয়, যেন পড়ার সময় পাঠক সেটা অনুভব করতে পারে। সেই দিকে লেখক প্রথম অর্ধেকাংশে সার্থক। পড়াকালীন আমি একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। অন্ধকার রুমে বসে পড়ার সময় গা কাঁটা দিয়ে উঠেছিল বেশ কয়েকবার।

    🔸সবশেষে:

    লেখকের লেখনশৈলী দারুন। প্লট এবং সাবপ্লট হিসেবে যে দিকগুলো আলোকপাত করেছেন তা অবশ্য প্রশংসনীয়। কিন্তু ছোট পরিসরের লেখায় বড় বড় ঘটনাকে শুধু শিরোনামের আকারে ব্যবহার না করে সেই ঘটনাকে ঘিরে আরো তথ্যভিত্তিক লিখলে হয়ত বিষয়টা জমত। আর্ক অভ দ্য কভনেন্ট, আলেক্সান্দ্রিয়ার লাইব্রেরী, আযাযিল আর আমাতিতির উল্লেখ যে কৌতুহল জাগিয়েছিল তা শেষে এসে এক সুতোয় গাঁথার বদলে ছড়িয়ে গেছে। সামনে হয়ত লেখক এসব বিষয়ে আরো আলোকপাত করবে। হররে ভালো সম্ভাবনার দিক অবশ্যই আছে। লেখকের জন্য শুভকামনা রইল।

    পার্সোনাল রেটিং: ৩.৫/৫

Add a review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একই রকম আরো কিছু বই
Shopping Cart
Scroll to Top