অ্যালিস ফিনি
রক পেপার সিজরস
Available Book Type
Paper Book
Book Info:
রক পেপার সিজরস
অ্যালিস ফিনি
অনুবাদ:আহনাফ তাহমিদ
৳ 600.00
দশ বছরের বৈবাহিক সম্পর্কের বুনিয়াদ কেবলই মিথ্যে? রক পেপার সিজর্স খেলার দুই পাকা খেলোয়াড় দাঁড়িয়ে আছে দু’প্রান্তে। কে কাকে জিতিয়ে দেবে এবার?
পাতা ঢাকবে পাথর, নাকি কাঁচি কাটবে পাতা?
দশ বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক। দশ বছর বুকের মাঝে লালিত কিছু গোপন কথা।
আর এমন এক বিবাহবার্ষিকী, যা কখনও ভোলার নয়।
বিস্তারিত
বিয়ের পর একই ছাদের নিচে বছরের পর বছর বসবাস করা দুজন মানুষ পরস্পরকে ঠিক কতটা চিনতে পারে?
খাদের কিনারায় এসে থমকে পড়া বৈবাহিক সম্পর্কটা বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে অ্যাডাম আর এমেলিয়া বেছে নিলো র্যাফেল ড্র-তে জিতে নেয়া স্কটল্যান্ডের ছুটিটা। কিন্তু ব্ল্যাকওয়াটার চ্যাপেলে আসবার পর থেকে ঘটতে শুরু করল নানা অদ্ভুতুড়ে ঘটনা। কেউ একজন চাইছে না ওরা বেঁচে ফিরুক।
বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষ্যে অ্যাডামকে লেখা চিঠিগুলোতে এমেলিয়া নিজেকে প্রকাশ করল আরও গভীরভাবে। উন্মোচিত হতে লাগল স্বামী-স্ত্রীর গোপন সব গল্প।
দশ বছরের বৈবাহিক সম্পর্কের বুনিয়াদ কেবলই মিথ্যে? রক পেপার সিজর্স খেলার দুই পাকা খেলোয়াড় দাঁড়িয়ে আছে দু’প্রান্তে। কে কাকে জিতিয়ে দেবে এবার?
পাতা ঢাকবে পাথর, নাকি কাঁচি কাটবে পাতা?
দশ বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক। দশ বছর বুকের মাঝে লালিত কিছু গোপন কথা।
আর এমন এক বিবাহবার্ষিকী, যা কখনও ভোলার নয়।
অ্যালিস ফিনির রক পেপার সিজরসে পাঠক ঘুরতে থাকবেন রহস্যের গোলকধাঁধায়। শেষটায় সব হিসেব পালটে দেবে ছায়া থেকে উদয় হওয়া অশরীরি।
তৈরি তো?
পাঠকের প্রতিক্রিয়া
1 review for রক পেপার সিজরস
একই রকম আরো কিছু বই
Related products
তোমাদের গল্প
উপন্যাস





Zakaria Minhaz –
#Book_Mortem 268
রক পেপার সিজরস
সংসারের টালমাটাল অবস্থা ঠিক করার শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে এমিলিয়া আর অ্যাডাম একটা উইকেন্ডের ছুটি কাটাতে গেল স্কটল্যান্ডের ব্ল্যাকওয়াটার চ্যাপেলে। ভয়ংকর আবহাওয়ায় অনেক কষ্টে ভীষণ সুন্দর কিন্তু একদমই নির্জন সেই জায়গায় গিয়ে তারা পৌছুলো ঠিকই, কিন্তু প্রায় সাথে সাথে ঘটতে লাগল একের পর এক অদ্ভুত সব ঘটনা। তারা এখানে একা নয়, কেউ যেন নজর রাখছে তাদের ওপর! আবার স্বামী স্ত্রী দুজনেরই রয়েছে লুকানোর মতো গোপনীয়তা। যে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কারও জান নিতেও পরোয়া করবে না তারা। এর সাথে যুক্ত হলো ভূতুড়ে সব ঘটনা, চ্যাপেলের রহস্য আর এক ডাইনী সদৃশ নারী। ওরা বিয়ে বাঁচাতে এসে জান বাঁচিয়ে ফিরতে পারবে তো?
অবিশ্বাস ও ঘৃণার বীজ যে সংসারে
বইয়ের শুরু থেকেই বোঝা যায় স্বামী স্ত্রী একে অপরকে সহ্যই করতে পারছে না। এরা দাম্পত্য সম্পর্ক ঠিক করতে আসলেও, এখানেও তাদের মাঝে রয়েছে নানাবিধ গোপন ব্যাপার স্যাপার। তা এই অবিশ্বাসের সূত্রপাত আসলে কোথায়? ওয়েল, সেটা জানা যায়, গল্পের বর্তমান টাইমলাইনের বিভিন্ন অধ্যায়ের ফাঁকে ফাঁকে ১০ বছর ধরে প্রতি অ্যানিভার্সারিতে স্বামীকে লেখা স্ত্রীর বিভিন্ন চিঠির মাধ্যমে। মাত্র তিনটা চরিত্র নিয়ে সাজানো গল্পে বেশ ভালোই ঘোল খাইয়েছেন লেখিকা। শুরুতেই তাদের চ্যাপেলে আগমন এবং সেখানে ঘটে চলা অদ্ভুত সব ঘটনা পাঠককে কী হয় কী হচ্ছে ধরণের একটা অস্বস্তিতে ফেলে দিবে। ক্রিপি কিছু সিকুয়েন্স সেই আগ্রহকে আরও একটু উস্কে দেবে ঠিকই। তবে একই সময়ে উত্তেজনায় লাগাম টেনে ধরবে অতীতের ঘটনাবলী নিয়ে সাজানো চিঠিগুলো৷ বইয়ের চিঠির এই অংশটুকু বেশ ধীরগতির। ঘটনাপ্রবাহ এখানে মনে হবে যেন আগাচ্ছেই না। চিত্রনাট্যকার স্বামীর হলিউডে ক্যারিয়ার গড়ার উত্থানের পেছনের গল্প পাঠক জানতে পারে তার স্ত্রীর এসব চিঠি থেকে। ধীরে ধীরে কীভাবে সফলতার তুঙ্গে পৌছে যায় তারা, কীভাবে তাদের স্বপ্নগুলো একে একে ধরা দেয় তাদের হাতে জানা যায় সেসব কাহিনি। সাথে এখানেও থাকে একটা গোপন ব্যাপার। যে গোপনীয়তা স্ত্রী লুকিয়ে রেখেছে নিজের মাঝে। এই অংশগুলো পড়তে খানিকটা বিরক্ত লাগতে পারে। মনে হতে পারে, এগুলা জেনে আমার কী লাভ? কিন্তু ট্রাস্ট মি, এই স্লো বিল্ডআপের দরকার ছিল। ধৈর্য ধরে এগুলো পড়ে গেলেই তবে আসল মজাটা পাওয়া যাবে।
চ্যাপেলের রহস্য
তবে চিঠির তথা অতীতের অংশগুলোর বাইরে বর্তমান টাইমলাইনের ঘটনাবলী কিন্তু যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং। এখানে এসে বইয়ের গতি ঠিকঠাক লাগবে। একের পর এক বিভিন্ন ধরণের উৎকট ঝামেলায় জড়িয়ে যায় দম্পত্তি এখানে এসে। এমনকি চ্যাপেল ছেড়ে যে পালিয়ে যাবে সেই সুযোগটাও থাকে না তাদের। বেঁচে ফিরতে পারবে কিনা সেই দুশ্চিন্তার পাশাপাশি তৈরি হয় একে অপরের প্রতি তীব্র সন্দেহ। এর পাশাপাশি চ্যাপেলের গোপন কক্ষ ও সেখানে আবিষ্কার করা বিষয়গুলো যখন অতীতের চিঠির সাথে সংযোগ করানো হয়, তখন খানিকটা নড়েচড়ে বসতেই হবে পাঠককে। চ্যাপেলের অদূরেই এক কুঁড়েঘরে থাকা রহস্যময় নারী রবিনকে ঘিরেও তৈরি হয় ধুম্রজাল। কে এই রবিন? তার পোষা প্রাণিটাই বা কী? সে কোন প্ল্যান নিয়ে আগাচ্ছে? পাশাপাশি রয়েছে অ্যাডামেরও অতীতের কোনো পাপ। যে পাপ আজও তাড়া করে ফিরছে তাকে। তারওপর বেচারা আবার “চেহারা চিনতে না পারার” মতো বিরল এক রোগে আক্রান্ত। অর্থাৎ সে কোনো মানু্ষের চেহারা মনে রাখতে পারে না। সব মিলিয়ে বর্তমান টাইমলাইনের অংশটুকু যথেষ্ট চিত্তাকর্ষক।
দ্য টুইস্ট দ্যাট হিট লাইক আ ট্রাক
একবার ক্রিকেট বিশ্বকাপে পাকিস্তানি এক সাপোর্টার একটা ভিডিও খুব ভাইরাল হয়েছিল। ওই যে “এক পাল মে ওয়াক্ত বাদাল দিয়া, জাজবাত বাদাল দিয়ে, জিন্দেগী বাদাল দি” ডায়ালগটা, যেটা এখন বেশ ভালো একটা মিম ম্যাটারিয়ালি পরিজিত হয়েছে। ওয়েল, এই বইয়ের টুইস্টটা যখন পড়ি, তখন আমার মাথায় ঠিক এই লাইনগুলোও বেজে উঠেছিল। আমি সম্পাদনা করছিলাম বইটার। স্লো মোশনে পড়ে যাচ্ছি, এরপর হঠাৎ করেই এই টুইস্ট। সত্যি বলছি, আমি কিছুক্ষণ স্রেফ থম ধরে বসেছিলাম। মানে কী! এইটা ক্যাম্নে হইল? বেশ অনেক্ষণ আর কাজই করতে পারিনি। উলটো বারবার পেছনে গিয়ে পড়ে আসতে হয়েছে সেই চিঠিগুলো, যেগুলো বাহুল্য মনে হচ্ছিল এতক্ষণ ধরে। দেখুন, আমি বলব না এই টুইস্টের আগ পর্যন্ত বইটা আমার কাছে আহামরি লাগছিল। চ্যাপেলের রহস্যগুলোর বাইরে মোটামুটি ঢিমেতালেই চলছিল বইয়ের গল্প। কিন্তু যে জিনিসটা মোটেই আশা করিনি, সেটাই ঘটে একদম হুট করে। আর এখানে এসেই বদলে যায় সকল সমীকরণ।
তবে বইয়ের পুরো এন্ডিংটা নিয়ে আমার ভেতরে কিছু দ্বিধা রয়ে গেছে। আমার মনে হয়েছে পাঠককে বারবার চমক দিতে গিয়ে লেখিকা একটু বাড়াবাড়িই করে ফেলেছেন। বিশেষ করে পুরো গল্পে স্রেফ হাতেগোনা দু একবার উল্লেখ করা এক গোয়েন্দার একটা চ্যাপ্টার আছে। ওইটা একেবারেই অযৌক্তিক আর অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। এর পাশাপাশি অ্যাডাম আর এমেলিয়ার অতীতের ব্যাপারগুলোও কেমন জানি ঠিক জমল না টাইপ লাগছে। বাট ওভারঅল বইটা আমার মনে থাকবে স্রেফ আর স্রেফ ওই একটা টুইস্টের জন্যই।
ব্যক্তিগত রেটিং: ০৭/১০ (স্লো বার্ন টাইপ বই। ঢিমেতালে এগোবে গল্প। তবে মনোযোগ দিয়ে পড়ে গেলে টুইস্টের চমকটা ভালোই লাগার কথা সবার)
অনুবাদ: রাতুল ভাইয়ের অনুবাদ নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নেই। বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা অনুবাদকদের একজন হিসেবে ধরা যায় উনাকে। আর যেহেতু সম্পাদনা করেছি আমি নিজেই, তাই আশা করি একটা ভালো রিডিং এক্সপেরিয়েন্স উপহার দিতে পেরেছি পাঠককে। তবুও ভুল ত্রুটি রয়ে যেতেই পারে। সেগুলোকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল।