সাজ্জাদ সিয়াম
কৃষ্ণকায়া
Available Book Type
Paper Book
Book Info:
কৃষ্ণকায়া
সাজ্জাদ সিয়াম
৳ 550.00
আমাদের এই ‘পৃথিবী’ কি আদৌ একা? এই গল্প কি শুধুই আমাদের চির-পরিচিত এই পৃথিবীর? নাকি সমান্তরালে ছুটে চলা দুটো, তিনটে কিংবা অসংখ্য দুনিয়ার সলিল সমাধি হতে চলেছে কালের গহ্বরে?
কৃষ্ণকায়া আপনাদের পরিচয় করাবে এক অনিঃশেষ, অন্তহীন জগতের, যেখানে প্রবেশের পরপর সম্মুখীন হবেন এক অমোঘ প্রশ্নের।
মৃত্যু নাকি অমরত্ব?
বিস্তারিত
সেনাবাহিনী ছেড়ে চলে আসা রুক্ষ আর পোড়খাওয়া রুদ্র আফসারের সাথে ঘটছে একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনা। ছাগলের মাথাওয়ালা বীভৎস চেহারার এক দুপেয়ে প্রাণীকে নিজ চোখে দেখেছে সে, যার কপালে আবার জ্বলজ্বল করছে রক্তাক্ত ত্রিভুজ!
দুঃস্বপ্ন নাকি ভ্রম? কিন্তু একই সময়ে যে তার প্রিয় দুই বন্ধুও সম্মুখীন হচ্ছে অপার্থিব আর ভয়াল সব ঘটনার, তার ব্যাখ্যা কী? তাহলে কি ছয় বছর আগে খেয়ালের বশে পুরোনো এক ডায়েরি পড়ে সিলেটের সেই গহীন অরণ্য যাত্রাই কাল হয়ে দাঁড়াল? হঠাৎ ঘাড়ের পেছনে চোখের আকৃতির চিহ্ন ভেসে উঠল সবার। চিহ্ন দেখে বুঝতে ভুল হলো না রুদ্রের, “উই হ্যাভ বিন মার্কড।”
কীজন্যে চিহ্নিত করা হলো সবাইকে? সেই চিহ্নিত মানুষের সংখ্যা কি আদৌ গণনাযোগ্য?
এসআই রশীদ আর আদ্রিয়ানকে ফাঁকি দিয়ে মিলিয়ে যাওয়া সেই অবিনশ্বর মানবী যখন দৃশ্যপটে হাজির হলো, উঠে এলো বিস্মৃত এক ভয়াল ইতিহাস। যা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল সবার নশ্বর অস্তিত্বকেই। যে ইতিহাস একই সময়ে বদলে দেয়ার ক্ষমতা রাখে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ! যে অভিশপ্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি থামানোর আপ্রাণ চেষ্টায় লড়ে গিয়েছিল রশীদ আর আদ্রিয়ান, তা কি আদৌ থামাতে পেরেছিল তারা? নাকি তা ছিল অনিঃশেষ আঁধারের প্রারম্ভ মাত্র? যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে রুদ্র, সিজার আর আরশাদের জীবন! শুধুই কি ওদের জীবন, নাকি গোটা পৃথিবীর আয়ুরেখা?
আমাদের এই ‘পৃথিবী’ কি আদৌ একা? এই গল্প কি শুধুই আমাদের চির-পরিচিত এই পৃথিবীর? নাকি সমান্তরালে ছুটে চলা দুটো, তিনটে কিংবা অসংখ্য দুনিয়ার সলিল সমাধি হতে চলেছে কালের গহ্বরে?
কৃষ্ণকায়া আপনাদের পরিচয় করাবে এক অনিঃশেষ, অন্তহীন জগতের, যেখানে প্রবেশের পরপর সম্মুখীন হবেন এক অমোঘ প্রশ্নের।
মৃত্যু নাকি অমরত্ব?
পাঠকের প্রতিক্রিয়া
4 reviews for কৃষ্ণকায়া
একই রকম আরো কিছু বই
Related products
স্বর্ণবাজ
ঐতিহাসিক উপন্যাস






Nishat sikder –
একটু বেশি সাইকোপ্যাথিক কিছু পড়তে চাইলে, ভূত ছাড়া ও ভয় পেতে চাইলে, এই বই আপনার জন্য মাস্টরিড।
Nazia –
বই: কৃষ্ণকায়া
লেখক: সাজ্জাদ সিয়াম
প্রকাশনী: ঋদ্ধ প্রকাশ
জনরা: ডার্ক ফ্যান্টাসি/ কসমিক হরর
মুদ্রিত মূল্য: ৫০০৳
🚫 সাজ্জাদ সিয়াম মানেই ভায়ো*লেন্সে ভরপুর। যারা লেখকের গল্প পড়েন তাদের অবশ্য জানার কথা। তবে ‘কৃষ্ণকায়া’ হয়ত সব বাউন্ডারি পার করে ছক্কা মেরে দিয়েছে। বল গিয়ে পড়েছে পৃথিবীর বাইরে আরেক সমান্তরাল জায়গায়। তাই অনুরোধ থাকবে–কোমল হৃদয়ের পাঠক/পাঠিকাগণ অবশ্যই দশহাত দূরে থাকবেন।
🔸মৃ*ত্যু আর অমরত্বের মাঝে সেতু হলো ‘সময়’। এই সময় বহমান। তাকে ধরার সাধ্য কার আছে? আছে হয়ত এক সত্ত্বার; তার বাইরে যে সত্ত্বা আছে তার নাম ‘কৃষ্ণকায়া’। ‘অবিনশ্বর’ এর সিক্যুয়েল বই ‘কৃষ্ণকায়া’; যার উল্লেখ ছিল অবিনশ্বরের শেষে। এ বছরের বইমেলায় প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে আমার কৌতূহলের কারণ ছিল ‘কৃষ্ণকায়া’।অজানা সেই যাত্রার ইতি দেখতে চাওয়াই ছিল লক্ষ্য। সে যাত্রা সফল হয়েছে–সেই সাথে এক গা গুলানো বিভৎস ঘটনার সমাপ্তি। আসলেই সমাপ্তি? নাকি সূচনা?
🔸 কাহিনী সংক্ষেপ:
ছয় বছরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমানে থাকা তিন বন্ধুর জীবনে ফিরে আসছে অতীতের কালো থাবা। একটি ডায়েরি, একটি অতীত, একটি হারানো গল্প। বর্তমানে রুদ্র দাঁড়িয়ে আছে এক দ্বিধার প্রান্তে। ভ্রম আর আসলে ফারাক করতে গিয়ে টের পাচ্ছে সে একা নয়–এই জালে জড়িয়ে পড়েছে বাকি দুজন ও। হঠাৎ করে ঘাড়ের উপর আবিষ্কার করছে চোখের চিহ্ন। কিন্তু কেন? কোথা থেকে আসলো এই চিহ্ন?
ব্যাখ্যাতীত ঘটনার মাঝেই ফিরে আসে অবিনশ্বরের গল্প। চিরচেনা দুই চরিত্র এসে দাঁড়ায় বর্তমানে; আদ্রিয়ান আর রশীদ। উঠে আসে আরেকটিবার সেই অভি*শপ্ত ইতিহাস। যাকে থামাতে এতকিছু সে কি থেমেছিল? সমাপ্তির সুর নাকি সৃষ্টির সূচনা–কৃষ্ণকায়া বলে গেছে এক নতুন পৃথিবীর কথা, যেখানে জড়িয়ে গেছে গোটা পৃথিবীর মানুষ। কেমন হবে যদি নিজের অস্তিত্বই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে যায়?
🔸পাঠ-পর্যালোচনা:
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের মোড়কে মোড়ানো ‘অবিনশ্বর’কে ভেঙে যখন লেখক ছোটা প্যাকেট বড় ধামাকা দেখাতে চাইলেন–তখন ‘কৃষ্ণকায়া’র মতো ধামাকা দেখার সুযোগ হলো। যেখানে জনরা ১৮০° এন্গেলে ঘুরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ডার্ক ফ্যান্টাসি আর কসমিক হররের মধ্যে। ভয়ের এলিমেন্ট কি সেটা নিয়ে খুঁজতে গিয়েই টের পাবেন শিড়দাড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া এক শীতল হাওয়া। ঠিক যেন হরর মুভির মতো; আপনি জানতে চান সামনে কি হবে কিন্তু দেখতে ভয় পাচ্ছেন। অপ্রীতিকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে তখন যখন পড়ার সময় কাঁধে কেউ হাত রেখেছে। ভূতের গল্পে ভূতের উপস্থিতি থাকবে জানা থাকে কিন্তু কসমিক হররে সেই ভয়টা আসে সারপ্রাইজ বক্সে।
লেখক সেই কনসেপ্টেই পুরোটা গল্প বলে গেছেন। কোথাও কোথাও দেখিয়েছেন। পড়তে গেলে আমি অবশ্য আমার চারপাশে সেই জগতটা তৈরি করে ফেলি কিংবা বলা যায় টাইম লোপ করে পৌঁছে যাই সেখানে। কিন্তু এইখানে এসেই সমস্যা। এইবারের জগত আমাকে বের হতে দেয়নি এক মূহুর্তের জন্য। ঘোরের মধ্যে ঘোর তৈরি করেছে। বিভৎস সেই বর্ণনাগুলো গ্রোগাসে গিলেছি। পড়াকালীন একটি ছোট্ট বার্তা ছিল–অতি কৌতূহল ক্ষতিকারক। তানাহলে কি এক অ্যাডভেঞ্চার বদলে দেয় চার বন্ধুর ভবিষ্যত?
গল্প এগিয়েছে দুটো টাইমলাইনে; অবিনশ্বরের মতোই এখানেও এক জায়গায় দেখানো হয়েছে রুদ্র, সিজার, আরশাদকে নিয়ে অন্যদিকে এস আই রশীদ আর তার অমিমাংসিত কেস। এই দুই সময়ের জটলা পাকেনি বরং অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে ফাঁকে ফাঁকে। কিছু নতুন প্রশ্ন রেখেও গেছেন। গল্পে প্যারালাল ইউনিভার্স থিমের সাথে যোগ হয়েছে টাইম ট্রাভেল। লেখক যেমন অতীত দেখিয়েছেন তেমনই ভবিষ্যত। বইয়ের নামকরণের পেছনে যে মূল থিম ছিল তা নিয়েও আংশিক আলোকপাতের প্রচেষ্টা ছিল। মিথ আর ইতিহাসের কম্বিনেশনে ডার্ক বলতে যে আসলেই গাঢ় অন্ধকার সেই কথার মর্ম রেখেছেন পাতায় পাতায়। এক কথায় বললে–রোলার কোস্টার রাইড উইথ ইমাজিনেশন।
চরিত্রায়নের লেখক বরাবরই মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। স্বল্প দৈর্ঘ্যের চরিত্রও বিকশিত হয়েছে সমানতালে। কোনো চরিত্রের আগমন অতিরিক্ত মনে হয়নি কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আবেগের অভাব টের পেয়েছি। তবে পুরো গল্পে সংলাপ নির্ভরতা একটু বেশি দৃষ্টিগোচর ছিল। লোমহর্ষক বর্ণনা গুলো কোথাও কোথাও কম করা যেত বলেই মনে হয়েছে। ভায়ো*লেন্স মন্দ না, তবে সবখানে তার উপস্থিতি সবসময় প্রীতিকর হয় না।
তবে শেষে এসেও মনে হয়েছে, ‘শেষ হয়েও হইল না শেষ’। ‘অবিনশ্বর’ এর যে সুতো এখানে এসে জোড়া লেগেছে সেই সুতোর প্রান্তভাগে রয়ে গেছে আরো কিছু প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর হয়ত মিলবে পরবর্তী সিক্যুয়েলে।
🔸 বানান, সম্পাদনা, প্রচ্ছদ ও প্রোডাকশন:
বানান ভুল তেমন দৃষ্টিগোচর হয়নি। তবে সম্পাদক টিমকে ধন্যবাদ পড়াকালীন বইয়ের ফ্লো এদিক সেদিক মনে হয়নি বলে। প্রোডাকশন নিয়ে আমার একটা মতামত আছে। ঋদ্ধ প্রকাশনীর এ যাবত কালের যত প্রোডাকশন হাতে এসেছে সবগুলোই টপনচ; ‘কৃষ্ণকায়া’র প্রোডাকশন কোয়ালিটি আরো ভালো লেগেছে। বিশেষত এর প্রচ্ছদের কালার এবং এলিমেন্ট কম্বিনেশন। কন্টেন্ট এবং পুরত্ব হিসেবে বললে বইয়ের ছাড়মূল্য আমার কাছে পাঠকসুলভ বলেই মনে হয়েছে।
🔸সবশেষে:
যারা মৌলিক ডার্ক ফ্যান্টাসি/ কসমিক হররের মধ্যে ভিন্ন স্বাদের কিছু খুঁজছেন তাদের জন্য রেকমেন্ডেড থাকল। তবে পড়ার আগে সিদ্ধান্ত আপনার। কারণ অতিরিক্ত ভায়ো*লেন্স অনেকেরই সহ্য হয় না–আবার পড়া শুরু করলে শেষ না করার উপায়ন্তর নেই।
Farjana Rahman –
উইয়ার্ড, অবাস্তব এবং অদ্ভুত!
সাজ্জাদ সিয়ামের ‘অবিনশ্বর ‘ এর দ্বিতীয় পার্ট ‘কৃষ্ণকায়া’ নিয়ে বলতে গেলে উপরের বিশেষণগুলো চলে আসবে। এখন এগুলো দেখে বইটা এড়িয়ে গেলে অবিচার হবে। উক্ত শব্দগুলোরে যথাযথভাবে লিঙ্কড-আপ না করলে মিসরিডিং এর সম্ভাবনা থাকে।
পাঠককে তাই প্রথমেই তাকাতে হবে বইয়ের “জনরার” দিকে। কসমিক হরর। সুতরাং, এই জনরার সকল উপসর্গ ব্যবহার করেই এগিয়েছে কৃষ্ণকায়া। উইয়ার্ড, অবাস্তব এবং অদভুত শব্দগুলো তখন কাহিনির দুর্বলতা না হয়ে জনরার প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন হয়ে ওঠে। যদিও এই জনরার মোড়কে লেখক “ব্যাখ্যার বাইরে অনেককিছু ঠেলে দেবার’ সুবিধাটুকুও ভোগ করেছেন।
প্রথমেই বলে রাখি, কসমিক হরর বা এই টাইপ বই আমার চয়েসের একদম তলানিতে। সুতরাং বইটা মোটাদাগে আমার দুর্দান্ত লেগেছে একথা বলা হবে মিথ্যেও তারপরেও এই বইয়ের আলোচনা কেন লিখতে বসলাম? কারণ লেখার বেশ কিছু ব্যাপার আছে। আমার অপছন্দটা বইয়ের জনরার কারনে, সুতরাং সেটার দায়ভার লেখকের না।
‘অবিনশ্বর’-এ যে টাইপ ভায়োলেন্স দেখি, সেটা কৃষ্ণকায়ায় নেই। অবিনশ্বও নিয়ে আলোচনায় আমি পূর্বেই বলেছিলাম-
“ভয় দেখানোটা বা “চাপ”-টা কোন জায়গা থেকে আসে তা কিন্তু অনেকাংশে ক্লিয়ার। যেটাকে বলা চলে বিভৎসতা। এই মেকানজিমে এসে পাঠক একটা বিশাল দূরত্ব নিয়েই দাঁড়াবে মে বি। অন্তত আমার ব্যক্তিগত অভিমতে, এগজিস্টিং যে ভয় জাগানোর সিষ্টেম, তার মনোটনিটা আমি টের পাচ্ছি।..”
স্পষ্টতই কৃষ্ণকায়ার ভয়ের জায়গাটা বিভৎসতা না। আবার শিশুদের প্রতি বিভৎসতা দিয়ে পাঠককে শিউরে উঠানোর মেকানিজন দিয়েও পূর্ন না। বরং আরও বেশি সলিড। কৃষ্ণকায়া এই জায়গায় এগিয়ে আমার মনে হয় অবিনশ্বও থেকেও।
যদিও সাজ্জাদ সিয়ামের দুটো বইয়ের বিজ্ঞাপন বা প্রাণভোমর হয়ে প্লাকার্ডে যে শব্দটা জ্বলজ্বল করে তা হচ্ছে “ভয়”। আমার মতে, এখানে ভয় আছে তবে কাহিনির বা বইয়ের মূল বিষয় বরং ঠিক তার উল্টো ‘সাহস’। সাজ্জাদ সিয়াম যে কমপ্লেক্স টাইমলাইন এবং কাহিনির বিস্তার ঘটিয়েছেন আমাদের নিজেদের মাতৃভাষায়, যে স্বপ্ন তিনি দেখছেন এই সাহসটাই বইয়ের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। ‘ভয়” নামক শব্দের ট্যাগে বইয়ের বিজ্ঞাপন মুখোশের ন্যায়: যদিও লেখক বা প্রকাশক “লেখকের সাহসের” বিজ্ঞাপন করাটাও ক্লিশে বা দৃষ্টিকটু হতো।
যাই হোক যেহেতু শুরুতেই বলেছি এই জনরা আমার ফেভারিটের ধারেকাছেও না, তাঁই বই নিয়ে বিস্তর আলোচোনার নুন্যতম যোগ্য ব্যক্তি আমি না। আর অন্তর্জালে কৃষ্ণকায়ার প্রচুর আলোচনাও আছে। সেগুলোর গাদা গাদা রিপিটেশনে যাওয়াও হুদাই। মেক্সিমাম বেসটারে নিয়া লেখার খুঁটিনাটি দিক ভাবার পক্ষে আমি না। বরং মিনিমামটারে বেসটারে আইডেন্টিফাই করে নেয়াই আমার মতে শ্রেয়। তাই টু-দ্য-পয়েন্ট আমার কিছু কথা বলেই বিদায় নিবো।
কৃষ্ণকায়ার শুরুর দিকের একটা মজার ব্যাপার বলি। আমাদের এস,এস,সি এক্সামের আগে আমরা একটা টেক্সস্ট-পেপার গাইড কিনতাম। অনেক মোটা। কিনেই সেটাকে পার্ট-বাই-পার্ট করে ফেলতাম। কৃষ্ণকায়ার চ্যাপ্টারগুলো যদি পার্ট-বাই-পার্ট করি, তবে প্রথমদিকের কয়েকটা চ্যাপ্টার দুর্দান্ত এবং পূর্নাঙ্গ ছোটগল্প হিসেবে উৎরে যাবে। বিশেষ করে, ২য় চ্যাপ্টারটা।
কৃষ্ণকায়ার ‘ভয়’ এর স্বরূপ কি? আধ্যাত্মিক না শারীরিক? এই প্রশ্নটা আমার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। শেষে এসে মনে হয়েছে, যতটা না আধ্যাত্মিক, তার থেকে শারীরিক বেশি। মৃত্যু তো পদে পদেই আছে কাহিনিতে, সেই মু/নু স্পর্শকাতর, নগ্ন, উদাসীন, আন্তরিক এবং ‘অশ্লীল’ (নেগিটিভ অর্থে না)।
একই সাথে শুরুতে যেটা বললাম, এই জনরার মোড়কে লেখক “ব্যাখ্যার বাইরে অনেককিছু ঠেলে দেবার’ সুবিধাটুকুও ভোগ করেছেন। সেই ব্যাখ্যার প্রতি মাঝে মাঝে উদাসীনতা অস্বস্তি নামক অনুভূতির কারন হতে পাওে পাঠকের জন্যে। যদি খুব খেয়াল করে দেখেন এখানে ইঙ্গিত আছে, তবে স্পষ্টিকরণে কিছুটা অস্বচ্ছতা। এবং মেজর পয়েন্টটা এখানেই এহেন অস্পষ্টতাই হয়ে উঠেছে ‘ভয়ের, কারন।
এবং শেষটায় এসে যেটা লক্ষ্য করি, কাহিনির সমাপ্তি কোন নৈতিক হিসাবনিকাশ অথবা ভাবমোচনের ভারী বিবেচনায় বিবর্তিত হয়ে ওঠে না, বরং একধরনের অসহায়ত্বের অনুভূতি ছেয়ে রয় যা রূপকবিহীন। একধরনের শীতল উপলব্ধি।
কাহিনির শুরু থেকেই যেটা নজর রাখছিলাম এবং ভালোও লেগেছে তা হচ্ছে কাহিনির পলিফোনিক গঠন। শুরু থেকেই কাহিনির গতি, কাহিনির ক্লিফহ্যাঙ্গার, কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে থ্রিলিং ভাব পাঠককে রহাসের আরও গভীরে টানে; সাথে ছিল চরিত্রায়নের একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন। শুরুর দিকে চরিত্রায়নে সার্জিক্যাল পিসিশন ছিল; মানে পাঠক কাকে সহানুভূতির মুকুট পড়াবেন আর কাকে ভালোবাসবেন বা সমবেদনা জানাবেন সেটা স্পষ্ট। এবং মাঝখানে যেয়েই সেই সার্জিক্যাল পিসিশনটাই নড়বড়ে করেছেন কাহিনি এবং টুইষ্টের প্রতি নিবেদিত থেকেই লেখক। যেটা প্রয়োজনীয় ছিল।
আরও একটা সিগনিফিকেন্ট দিক না বললেই না। যেহেতু এটা অবিনশ্বরের পরের পার্ট তাই পাঠকের শুরু থেকেই কিছু চিন্তা-ভাবনা ও গেস ছিল। সেটা ব্যতিত, এই কাহিনিতে মূল কোর পয়েন্ট এবং অন্যান্য অনুসঙ্গেও সীমারেখাটা দ্রুতই ভাঙেন লেখক। ধীরগতির কোন প্রলোভন নেই, ধৈর্য্য ধরে কোন পৌরানিক কাহিনি বা ভয়ের উন্মোচনের ব্যাপার নেই। ‘ভয়’ হুট করেই এসে পড়ে কালবৈশাখী ঝড়ের মতো আগাম পূর্বাভাস ছাড়াই।
কাহিনির জটিলটা লেখকের সাহসের জায়গা। তবে কাহিনির মূল শক্তি আমার কাছে এই কমপ্লেক্সনেস না বরং কাহিনির অবিরাম সংকোচন। মূল ভিত্তিটা একবার স্টাবলিশ হয়ে গেলেই সাঁড়াশি আক্রমন। এহেন রুক্ষতা কাহিনির পক্ষেই কাজ করে সৎ কর্মচারী হয়ে।
প্রথমেই বলেছি, এই জনরা আমার পছন্দের না। তাই স্বাভাবিকভাবেই ভালোলাগার পারদটুকু নিম্নমুখী। বরং “অবিনশ্বর” আমার কাছে এটা থেকে একটু বেশি ভালো লেগেছে। কিন্তু বই হিসাবে কৃষ্ণকায়া অবশ্যই অবিনশ্বর থেকে এগিয়ে। দু’রকম কথা হয়ে গেল? ঠিক তা না। অপছন্দের কারন কিন্তু এহেন জনরার প্রতি অস্বস্তি। এটা মাথায় রাখা লাগবে। যাদের এই জনরা পছন্দ, তারা তো পড়বেন। বাকিরাও পড়ে অন্তত এটা যাচাই করে নিতে পারেন, আমাদের নিজের ভাষায় এই জনরায় এমন একটা লেখা উক্ত জনরাটাকে “পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা” দিয়ে লেখক সাজ্জাদ সিয়াম রিপ্লেস করেছেন হয়তো। আমাদের দেশে সেরকম প্রযুক্তি থাকলে এবং সাজ্জাদ সিয়ামের মত কেউ সাহহ করে এগিয়ে আসলে দারুন এটা টিভি সিরিজ হতেই পারে। ভিজ্যুয়ালাইজেশনের দরুন বরং কৃষ্ণকায়া আরও আপন হয়ে উঠবে দর্শকর কাছে।
এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি। কাহিনি যেভাবে শুরু এবং স্মথ ভাবে এগুচ্ছিল, ঠিক তার পরেই আদ্রিয়ানকে পেজেন্ট করতে লেখকের “মিসির আলি”, “হিমু” এর প্রতি নড ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে অসম্ভবু ক্লিশে এবং বিরক্তি লেগেছে। এটা এক প্রকারের গিমিক ছাড়া কিছু না। ঘাড়ে ত্রিভুজ চিহ্ন নিয়ে মানুষ থেকে গাছ হয়ে যাওয়া “এন্ডগেম” এর থানোস এর কথা মনে করিয়ে দেয়। অথবা রুদ্র, সিজার বা ওদের আগের টাইমলাইনে ফিরে যাওয়া, যেখানে তারা পূর্বের ঘটনার অনুঘটক হিসেবে প্রেজেন্ট সেটা “ইন্টারস্টেলার” আর কুপারের কথা মনে করিয়ে দেয়। যদিও এই নডগুলো ব্যাপার না।
কাহিনিতে বেশ কিছু অসামঞ্জস্যতা আছে। যদিও কাহিনিতে সেগুলো কোন মেজর ইমপ্যাক্ট ফেলবে না। যেমন রুদ্র যখন তার মাকে কল করে, কল প্রতিবার বাজে কিন্তু পিক করে না। পরবর্তীতে তার মা বলে নেটওয়ার্ক ছিল না। নেটওয়ার্কের অনুপস্থিতে কল বাজার কোন কারন নেই। আবার শুরুতে রদ্র যখন বালুর মাঠে যায়, সময় বিকেল ৫ টা। তার একটু পরেই মাগরিবের আযান দেয়। বিকেল ৫টা একটু পরেই যখন আযান পরে তখন শীতকাল হবারই সমূহ সম্ভাবনা। যদিও পরবর্তী কোন আঙ্গিকে আমরা সেটা দেখি না। যদিও এটা মেজর কিছুই না।
এমন আরো কিছু খুঁটিনাটি ব্যাপার আছে। এর বিপরীতে খুঁটিনাটি কিছু সুন্দর ব্যাপারও আছে। যেমন জাকের যখন নিজের মৃত ছেলের কত বয়েস হতো বেঁচে থাকলে সেটা বলতে যেয়ে তিনি “তরুণ” বলেন “যুবক” না বলে। যুবক বললেই লেখন প্রশ্নের সম্মুখীন হতেন।
যাক লেখা শেষ করি। কৃষ্ণকায়া কল্পকাহিনি। বাস্তবের কিছু ঘটনাবহুল ইস্যুর নড প্রচ্ছন্নভাবে থাকলেও আমাদেও চেনা বাস্তবতার শরীরে এই কল্পকাহিনি কোন প্রকার স্যবোটেজ করবে না। সে আশা করাও ভুল। কৃষ্ণকায়ায় অপ্রয়োজনীয় চরিত্র নেই, নীডলেস ডিটেইলিং নেই (প্রচ্ছন্নভাবে’ কয়েকটা জায়গা ছাড়া)। এবং এই জনরা আমাদের নিজের ভাষায় পুনরজ্জীবনের একটা সাহসী সম্ভাবনা, হিসেবে পাঠক পড়ে দেখতেই পারেন।
ঋদ্ধ প্রকাশের প্রোডাকশন দারুন। বইয়ের সম্পাদনাও দুর্দান্ত। তবে বান্ডিং-এ আমার মনে হয় কিছুটা নমনীয়তা আনলে ভালো। মাঝে মাঝে বই খুললে দুই পৃষ্টার মাঝের যে বাইন্ডিং স্পেস সেখানে কয়েকটা ভাঁজ পড়ে। এগুলোর টেকনিকাল নাম কি সেটা জানি না বিধায় হয়তো আমি ঠিকভাবে সমস্যটা বলতে পারছি না।
ShahidaExpressions –
ফ্ল্যাপ :
সেনাবাহিনী ছেড়ে চলে আসা রুক্ষ আর পোড়খাওয়া রুদ্র আফসারের সাথে ঘটছে একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনা। ছাগলের মাথাওয়ালা বীভৎস চেহারার এক দুপেয়ে প্রাণীকে নিজ চোখে দেখেছে সে, যার কপালে আবার জ্বলজ্বল করছে রক্তাক্ত ত্রিভুজ! দুঃস্বপ্ন নাকি ভ্রম? কিন্তু একই সময়ে যে তার প্রিয় দুই বন্ধুও সারবীন এচ্ছে অপার্থিব আর ভয়াল সব ঘটনার, তার ব্যাখ্যা কী?
তাহলে কি ছয় বছর আগে খেয়ালের বশে পরোনো এক ডায়েরি পড়ে সিলেটের সেই গহীন অরণ্য যাত্রাই কাল হয়ে দাঁড়াল? হঠাৎ ঘাড়ের পেছনে চোখের আকৃতির চিহ্ন ভেসে উঠল সবার। চিহ্ন দেখে বুঝতে ভুল হলো না রুদ্রের, “উই হ্যাভ বিন মার্কড।” কী জন্যে চিহ্নিত করা হলো সবাইকে? সেই চিহ্নিত মানুষের সংখ্যা কি আদৌ
গণনাযোগ্য?
এসআই রশীদ আর আদ্রিয়ানকে ফাঁকি দিয়ে মিলিয়ে যাওয়া সেই অবিনশ্বর মানবী যখন দৃশ্যপটে হাজির হলো, উঠে এলো বিস্মৃত এক ভয়াল ইতিহাস। যা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল সবার নশ্বর অস্তিত্বকেই।
যে ইতিহাস একই সময়ে বদলে দেয়ার ক্ষমতা রাখে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ!
যে অভিশপ্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি থামানোর আপ্রাণ চেষ্টায় লড়ে গিয়েছিল রশীদ আর আদ্রিয়ান, তা কি আদৌ থামাতে পেরেছিল তারা? নাকি তা ছিল অনিঃশেষ আঁধারের প্রারম্ভ মাত্র? যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে রুদ্র, সিজার আর আরশাদের জীবন! শুধুই কি ওদের জীবন, নাকি গোটা পৃথিবীর আয়ুরেখা?
আমাদের এই ‘পৃথিবী’ কি আদৌ একা?
এই গল্প কি শুধুই আমাদের চির-পরিচিত এই পৃথিবীর? নাকি সমান্তরালে ছুটে চলা দুটো, তিনটে কিংবা অসংখ্য দুনিয়ার সলিল সমাধি হতে চলেছে কালের গহ্বরে?
কৃষ্ণকায়া আপনাদের পরিচয় করাবে এক অনিঃশেষ, অন্তহীন জগতের, যেখানে
প্রবেশের পরপর সম্মুখীন হবেন এক অমোঘ প্রশ্নের।
মৃত্যু নাকি অমরত্ব?
—
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া
এখন পর্যন্ত পড়া থ্রিলারের মধ্যে সবচেয়ে ইউনিক একটি বই।
মাত্রই বইটা পড়ে শেষ করলাম। কিন্তু কী রিভিউ লিখবো বুঝতে পারছিনা। প্রতিযোগিতা না হলে হয়তো রিভিউ দিতে ভ*য় লাগতো না। এখন কেমন যেন লাগছে৷ নিজের অনুভূতি ঠিকমতো বের হচ্ছে না। কেন যেন গুছিয়ে কিছু মাথায় আসছে না৷ বরং আরও ভাষাহীন হয়ে যাচ্ছি।
বইটা শুরু করেছিলাম অনেক আগে। প্রথম দুইটা পেইজ পড়ে আর পড়া হয়নি। তারপর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য শুরু করা। এরপরে আর বেশিক্ষণ লাগেনি। লেখক সাজ্জাদ সিয়াম যেভাবে শুরুতে বলেছিলেন যাদের হার্ট দুর্বল তারা যেন না পড়ে সেরকম ভ*য় যদিও পাইনি। তারমানে আমার হার্ট কিছুটা হলেও দুর্বলতা কা*টাচ্ছে।
৩২০ পৃষ্ঠার বইটিতে রয়েছে ২৯টি অধ্যায়। প্রতিটা অধ্যায় চুম্বকের মতো আকর্ষণীয়। বিশেষ করে মাঝখান থেকে যে অধ্যায় গুলো শুরু হয়েছে। যেটাকে ক্লাইম্যাক্স বলা যায়। মূলত সেখান থেকেই আমার আগ্রহ চরম পর্যায়ে পৌঁছাতে শুরু করে। এরপর আর আগ্রহ কমেনি। তবে আমি বইটার কিছু অংশ রাতে পড়তে পারিনি। কেমন যেন অস্বস্তি লাগছিলো। তাই না পড়ে রেখে দিয়ে দিনের বেলা পড়েছি। কারণ, রাতের অনেক অ্যাডভেঞ্চার ছিল যা গ্রামের বাড়িতে পড়ার সময় আরও ছমছমে অনুভূতি দিচ্ছিলো।
প্রথম দিকের কয়েকটা অধ্যায় আমার কাছে ধীরগতির মনে হয়েছে। কেননা প্রতিটা বিষয়ের বর্ণনা খুব বড় বড় করে দেওয়া হচ্ছিল। আর সবগুলো প্রশ্নের শুরু ওখানেই ছিল। এত এত প্রশ্নে মাথা ভারী হয়ে আসছিলো। তাই কিছুটা স্লো আগাচ্ছিলাম। কিন্তু মাঝখান থেকে ফ্লো একদম উত্তেজনার চরম পর্যায়ে ছিল যখন এক এক করে টুইস্ট সামনে আসছিলো। অবিশ্বাস্য লাগছিলো সব।
বইটার কিছু কিছু অংশ রিপিট করে পড়তে হয়েছে না বোঝার কারণে। কারণ, যেহেতু বইটাতে অমরত্ব, মৃ*ত্যু,অপভ্রংশ এসবের বিষয় বারবার আসছিল এবং অনেকগুলো সময়ের বর্ণনা ছিল তাই কিছুটা গোলমেলে লাগছিলো। বিভিন্ন টাইমলাইনে লেখক একই সময়ে চলে গিয়েছেন। তাই মনোযোগ দিয়ে না পড়লে ফ্লো ধরে রাখা কষ্টকর।
বইটিতে কয়েকটি চরিত্র রয়েছে :
রুদ্র আফসার
সিজার
আরশাদ
অপরাজিত
আদ্রিয়ান
রশীদ
রুবাইয়াৎ বেগম
তিথি
জাকের
সায়মা
শায়লা
তানজির
রেশাদ
মীরা
হামিদা বেগম
অরোরা
আরও কয়েকটি পার্শ্বচরিত্র।
—
এখানের বেশ কয়েকটা চরিত্রের মধ্যে রয়েছে টুইস্ট। আপনি ধারণাও করতে পারবেন না তাদের মধ্যে কে ভালো আর কে মন্দ। কাদের মধ্যে বসবাস করছে অশুভ শক্তি পাওয়ার তীব্র বাসনা। যাকে সবচেয়ে ইনোসেন্ট মনে হবে তার মধ্যেও থাকতে পারে পৃথিবীর সবচেয়ে ভ*য়ংকর সত্য। এখানে কাউকে তুচ্ছ করে দেখার সুযোগ নাই।
বইটি মূলত কী নিয়ে? নাম দেখেই আন্দাজ করতে পারছেন এখানে কৃষ্ণ ও কায়া দুটি শব্দের সমন্বয় হয়েছে। কৃষ্ণ মানে কালো। এটা যেই সেই কালো না। এমন কালো যেটাকে আমরা ব্ল্যাকহোলের মতো বলতে পারি। আর কায়া মানে কোনোকিছুর অবয়ব। আর কৃষ্ণকায়া নামটাই এমন অতিপ্রাকৃতের অস্তিত্ব প্রকাশ করছে। নামের মধ্যেই ভ*য় লুকিয়ে আছে। প্রচ্ছদ দেখেই ভ*য় ঢুকে যায় মনে। অমরত্বের সন্ধানে, মৃ*ত্যুকে জয় করতেই যার আগমন তারই নাম “কৃষ্ণকায়া।”
এই বইয়ে আপনি পাবেন সেই অসীম শক্তির সন্ধান। সেই অবর্ণনীয় কষ্টের দৃশ্য। এ কোনো স্বাভাবিক মৃ*ত্যু নয়। একেকটা মৃ*ত্যুর বর্ণনা আপনাকে শিহরণ জাগাবে। রুদ্র আফসারের মতো শক্তিশালী ব্যক্তিও শেষ পর্যন্ত হেরে যায় যার কাছে।
বইটির প্রচ্ছদ ও লেখকের লিখনশৈলী দারুণ। আপনি বর্ণনার গভীরে ঢুকে যাবেন। লেখক সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন মনের মাধুর্য দিয়ে। শব্দচয়ন ভালো। বাক্যগঠন সুন্দর।
তবে এক জায়গায় ডাক্তার মরিয়ম এর স্বামীর নাম হামিদুর না বলে কয়েকবার আনোয়ার বলা হয়েছে। এটা হয়তো লেখক ভুল করে বেখেয়ালে লিখেছেন।
যারা নতুন থ্রিলার রিডার তাদের জন্য কিছুটা কঠিন লাগতে পারে এবং ভ*য়ও পেতে পারেন। তাই বইটা পড়ার আগে ভেবেচিন্তে হাতে নিয়েন। আর যারা থ্রিলার,হররের প্রতি সবসময়ই টান অনুভব করেন, পড়ে অভ্যস্ত তাদের কাছে অবশ্যপাঠ্য। দারুণ উপভোগ করতে পারবেন। আমার কাছে এক অন্যরকম থ্রিলার পড়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে “কৃষ্ণকায়া” পড়ে। গতানুগতিক থ্রিলারের বাহিরে এক সুন্দর থ্রিলারের সন্ধান পেয়েছি।
আমার মনে হয় আগে আমার “অবিনশ্বর” পড়ার দরকার ছিল। কিন্তু সংগ্রহে না থাকায় বইটির ২য় পর্ব “কৃষ্ণকায়া” পড়তে হয়েছে। লেখক হয়তো এর ৩য় পর্বও আনবেন।
যারা লেখক সাজ্জাদ সিয়াম এর বই পড়বেন তাদের এই সিকুয়েলের প্রথম বই “অবিনশ্বর” দিয়ে শুরু করতে বলবো। আমি নিজে না পড়লেও ওটা না পড়ার অভাব বোধ করছি। যদিও তেমন সমস্যা হয়নি। তাও ধারণা রাখার জন্য আগেরটা আগে পড়াই ভালো।
সম্পাদনা ভালো হয়েছে। কোনো বানান ভুল চোখে পড়েনি। প্রোডাকশন ভালো। পেইজের কোয়ালিটি, বাইন্ডিং সবই ফার্স্ট ক্লাস। চোখ ধাঁধানো পেইজের কোয়ালিটি নয়। এতে পড়তে আরাম পেয়েছি।
এই প্রথম ঋদ্ধ প্রকাশের বই পড়েছি। এবং প্রথম বইয়েই প্রেমে পড়ে গিয়েছি। কোনো প্রকাশনীর একটি বই পড়েই ভালোলাগা শুরু হয়ে যাওয়া সাধারণ কথা নয়। অন্য বইগুলোর প্রতিও আকর্ষণ আসা সহজ কথা নয়। এই আগ্রহ জন্মেছে তাদের মৌলিক লিখার জন্য। এত সুন্দর করে মৌলিক লিখা খুব কমই পাওয়া যায়। অনেকে অনেক জায়গা থেকে কপি-পেস্ট করে। কেউ কেউ এআই থেকে লিখছে। তাই অনেকদিন পর একটা মৌলিক ও নিজের ভাষায় লিখা বই পড়ে আরাম আরাম লাগছে।
নিজের সম্পূর্ণ অনুভূতি প্রকাশ করার চেষ্টা করলাম। জানিনা কতটুকু পেরেছি। তবে নিজের মতো করে রিভিউ লিখার চেষ্টা করেছি। কোনো স্মার্ট ওয়ে ফলো করিনি। এতে রিভিউটা কেমন যেন নিষ্প্রাণ লাগে। নিজের অনুভূতির উপর কেমন যেন সেটিংসের ধরাবাঁধা নিয়ম চলে আসে। তাই নিজের মতো যখন যে বিষয়টা মাথায় এসেছে লিখে ফেলেছি। তেমন গুছিয়ে হয়তো পারিনি।
বাই দ্য ওয়ে, সব মিলিয়ে দারুণ লেগেছে আমার কাছে।
ধন্যবাদ লেখক ও প্রকাশনীকে। শুভকামনা রইল আপনাদের জন্য।
রেটিং : ৪.৫/৫