সাজ্জাদ সিয়াম
কৃষ্ণকায়া
Available Book Type
Paper Book
Book Info:
কৃষ্ণকায়া
সাজ্জাদ সিয়াম
৳ 550.00
আমাদের এই ‘পৃথিবী’ কি আদৌ একা? এই গল্প কি শুধুই আমাদের চির-পরিচিত এই পৃথিবীর? নাকি সমান্তরালে ছুটে চলা দুটো, তিনটে কিংবা অসংখ্য দুনিয়ার সলিল সমাধি হতে চলেছে কালের গহ্বরে?
কৃষ্ণকায়া আপনাদের পরিচয় করাবে এক অনিঃশেষ, অন্তহীন জগতের, যেখানে প্রবেশের পরপর সম্মুখীন হবেন এক অমোঘ প্রশ্নের।
মৃত্যু নাকি অমরত্ব?
বিস্তারিত
সেনাবাহিনী ছেড়ে চলে আসা রুক্ষ আর পোড়খাওয়া রুদ্র আফসারের সাথে ঘটছে একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনা। ছাগলের মাথাওয়ালা বীভৎস চেহারার এক দুপেয়ে প্রাণীকে নিজ চোখে দেখেছে সে, যার কপালে আবার জ্বলজ্বল করছে রক্তাক্ত ত্রিভুজ!
দুঃস্বপ্ন নাকি ভ্রম? কিন্তু একই সময়ে যে তার প্রিয় দুই বন্ধুও সম্মুখীন হচ্ছে অপার্থিব আর ভয়াল সব ঘটনার, তার ব্যাখ্যা কী? তাহলে কি ছয় বছর আগে খেয়ালের বশে পুরোনো এক ডায়েরি পড়ে সিলেটের সেই গহীন অরণ্য যাত্রাই কাল হয়ে দাঁড়াল? হঠাৎ ঘাড়ের পেছনে চোখের আকৃতির চিহ্ন ভেসে উঠল সবার। চিহ্ন দেখে বুঝতে ভুল হলো না রুদ্রের, “উই হ্যাভ বিন মার্কড।”
কীজন্যে চিহ্নিত করা হলো সবাইকে? সেই চিহ্নিত মানুষের সংখ্যা কি আদৌ গণনাযোগ্য?
এসআই রশীদ আর আদ্রিয়ানকে ফাঁকি দিয়ে মিলিয়ে যাওয়া সেই অবিনশ্বর মানবী যখন দৃশ্যপটে হাজির হলো, উঠে এলো বিস্মৃত এক ভয়াল ইতিহাস। যা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল সবার নশ্বর অস্তিত্বকেই। যে ইতিহাস একই সময়ে বদলে দেয়ার ক্ষমতা রাখে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ! যে অভিশপ্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি থামানোর আপ্রাণ চেষ্টায় লড়ে গিয়েছিল রশীদ আর আদ্রিয়ান, তা কি আদৌ থামাতে পেরেছিল তারা? নাকি তা ছিল অনিঃশেষ আঁধারের প্রারম্ভ মাত্র? যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে রুদ্র, সিজার আর আরশাদের জীবন! শুধুই কি ওদের জীবন, নাকি গোটা পৃথিবীর আয়ুরেখা?
আমাদের এই ‘পৃথিবী’ কি আদৌ একা? এই গল্প কি শুধুই আমাদের চির-পরিচিত এই পৃথিবীর? নাকি সমান্তরালে ছুটে চলা দুটো, তিনটে কিংবা অসংখ্য দুনিয়ার সলিল সমাধি হতে চলেছে কালের গহ্বরে?
কৃষ্ণকায়া আপনাদের পরিচয় করাবে এক অনিঃশেষ, অন্তহীন জগতের, যেখানে প্রবেশের পরপর সম্মুখীন হবেন এক অমোঘ প্রশ্নের।
মৃত্যু নাকি অমরত্ব?
পাঠকের প্রতিক্রিয়া
2 reviews for কৃষ্ণকায়া
একই রকম আরো কিছু বই
Related products
রক পেপার সিজরস
থ্রিলারমাসকারেড হোটেল
থ্রিলারপ্রজেক্ট টেট্রা মহাজাগতিক
সায়েন্স-ফিকশন






Nishat sikder –
একটু বেশি সাইকোপ্যাথিক কিছু পড়তে চাইলে, ভূত ছাড়া ও ভয় পেতে চাইলে, এই বই আপনার জন্য মাস্টরিড।
Nazia –
বই: কৃষ্ণকায়া
লেখক: সাজ্জাদ সিয়াম
প্রকাশনী: ঋদ্ধ প্রকাশ
জনরা: ডার্ক ফ্যান্টাসি/ কসমিক হরর
মুদ্রিত মূল্য: ৫০০৳
🚫 সাজ্জাদ সিয়াম মানেই ভায়ো*লেন্সে ভরপুর। যারা লেখকের গল্প পড়েন তাদের অবশ্য জানার কথা। তবে ‘কৃষ্ণকায়া’ হয়ত সব বাউন্ডারি পার করে ছক্কা মেরে দিয়েছে। বল গিয়ে পড়েছে পৃথিবীর বাইরে আরেক সমান্তরাল জায়গায়। তাই অনুরোধ থাকবে–কোমল হৃদয়ের পাঠক/পাঠিকাগণ অবশ্যই দশহাত দূরে থাকবেন।
🔸মৃ*ত্যু আর অমরত্বের মাঝে সেতু হলো ‘সময়’। এই সময় বহমান। তাকে ধরার সাধ্য কার আছে? আছে হয়ত এক সত্ত্বার; তার বাইরে যে সত্ত্বা আছে তার নাম ‘কৃষ্ণকায়া’। ‘অবিনশ্বর’ এর সিক্যুয়েল বই ‘কৃষ্ণকায়া’; যার উল্লেখ ছিল অবিনশ্বরের শেষে। এ বছরের বইমেলায় প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে আমার কৌতূহলের কারণ ছিল ‘কৃষ্ণকায়া’।অজানা সেই যাত্রার ইতি দেখতে চাওয়াই ছিল লক্ষ্য। সে যাত্রা সফল হয়েছে–সেই সাথে এক গা গুলানো বিভৎস ঘটনার সমাপ্তি। আসলেই সমাপ্তি? নাকি সূচনা?
🔸 কাহিনী সংক্ষেপ:
ছয় বছরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমানে থাকা তিন বন্ধুর জীবনে ফিরে আসছে অতীতের কালো থাবা। একটি ডায়েরি, একটি অতীত, একটি হারানো গল্প। বর্তমানে রুদ্র দাঁড়িয়ে আছে এক দ্বিধার প্রান্তে। ভ্রম আর আসলে ফারাক করতে গিয়ে টের পাচ্ছে সে একা নয়–এই জালে জড়িয়ে পড়েছে বাকি দুজন ও। হঠাৎ করে ঘাড়ের উপর আবিষ্কার করছে চোখের চিহ্ন। কিন্তু কেন? কোথা থেকে আসলো এই চিহ্ন?
ব্যাখ্যাতীত ঘটনার মাঝেই ফিরে আসে অবিনশ্বরের গল্প। চিরচেনা দুই চরিত্র এসে দাঁড়ায় বর্তমানে; আদ্রিয়ান আর রশীদ। উঠে আসে আরেকটিবার সেই অভি*শপ্ত ইতিহাস। যাকে থামাতে এতকিছু সে কি থেমেছিল? সমাপ্তির সুর নাকি সৃষ্টির সূচনা–কৃষ্ণকায়া বলে গেছে এক নতুন পৃথিবীর কথা, যেখানে জড়িয়ে গেছে গোটা পৃথিবীর মানুষ। কেমন হবে যদি নিজের অস্তিত্বই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে যায়?
🔸পাঠ-পর্যালোচনা:
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের মোড়কে মোড়ানো ‘অবিনশ্বর’কে ভেঙে যখন লেখক ছোটা প্যাকেট বড় ধামাকা দেখাতে চাইলেন–তখন ‘কৃষ্ণকায়া’র মতো ধামাকা দেখার সুযোগ হলো। যেখানে জনরা ১৮০° এন্গেলে ঘুরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ডার্ক ফ্যান্টাসি আর কসমিক হররের মধ্যে। ভয়ের এলিমেন্ট কি সেটা নিয়ে খুঁজতে গিয়েই টের পাবেন শিড়দাড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া এক শীতল হাওয়া। ঠিক যেন হরর মুভির মতো; আপনি জানতে চান সামনে কি হবে কিন্তু দেখতে ভয় পাচ্ছেন। অপ্রীতিকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে তখন যখন পড়ার সময় কাঁধে কেউ হাত রেখেছে। ভূতের গল্পে ভূতের উপস্থিতি থাকবে জানা থাকে কিন্তু কসমিক হররে সেই ভয়টা আসে সারপ্রাইজ বক্সে।
লেখক সেই কনসেপ্টেই পুরোটা গল্প বলে গেছেন। কোথাও কোথাও দেখিয়েছেন। পড়তে গেলে আমি অবশ্য আমার চারপাশে সেই জগতটা তৈরি করে ফেলি কিংবা বলা যায় টাইম লোপ করে পৌঁছে যাই সেখানে। কিন্তু এইখানে এসেই সমস্যা। এইবারের জগত আমাকে বের হতে দেয়নি এক মূহুর্তের জন্য। ঘোরের মধ্যে ঘোর তৈরি করেছে। বিভৎস সেই বর্ণনাগুলো গ্রোগাসে গিলেছি। পড়াকালীন একটি ছোট্ট বার্তা ছিল–অতি কৌতূহল ক্ষতিকারক। তানাহলে কি এক অ্যাডভেঞ্চার বদলে দেয় চার বন্ধুর ভবিষ্যত?
গল্প এগিয়েছে দুটো টাইমলাইনে; অবিনশ্বরের মতোই এখানেও এক জায়গায় দেখানো হয়েছে রুদ্র, সিজার, আরশাদকে নিয়ে অন্যদিকে এস আই রশীদ আর তার অমিমাংসিত কেস। এই দুই সময়ের জটলা পাকেনি বরং অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে ফাঁকে ফাঁকে। কিছু নতুন প্রশ্ন রেখেও গেছেন। গল্পে প্যারালাল ইউনিভার্স থিমের সাথে যোগ হয়েছে টাইম ট্রাভেল। লেখক যেমন অতীত দেখিয়েছেন তেমনই ভবিষ্যত। বইয়ের নামকরণের পেছনে যে মূল থিম ছিল তা নিয়েও আংশিক আলোকপাতের প্রচেষ্টা ছিল। মিথ আর ইতিহাসের কম্বিনেশনে ডার্ক বলতে যে আসলেই গাঢ় অন্ধকার সেই কথার মর্ম রেখেছেন পাতায় পাতায়। এক কথায় বললে–রোলার কোস্টার রাইড উইথ ইমাজিনেশন।
চরিত্রায়নের লেখক বরাবরই মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। স্বল্প দৈর্ঘ্যের চরিত্রও বিকশিত হয়েছে সমানতালে। কোনো চরিত্রের আগমন অতিরিক্ত মনে হয়নি কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আবেগের অভাব টের পেয়েছি। তবে পুরো গল্পে সংলাপ নির্ভরতা একটু বেশি দৃষ্টিগোচর ছিল। লোমহর্ষক বর্ণনা গুলো কোথাও কোথাও কম করা যেত বলেই মনে হয়েছে। ভায়ো*লেন্স মন্দ না, তবে সবখানে তার উপস্থিতি সবসময় প্রীতিকর হয় না।
তবে শেষে এসেও মনে হয়েছে, ‘শেষ হয়েও হইল না শেষ’। ‘অবিনশ্বর’ এর যে সুতো এখানে এসে জোড়া লেগেছে সেই সুতোর প্রান্তভাগে রয়ে গেছে আরো কিছু প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর হয়ত মিলবে পরবর্তী সিক্যুয়েলে।
🔸 বানান, সম্পাদনা, প্রচ্ছদ ও প্রোডাকশন:
বানান ভুল তেমন দৃষ্টিগোচর হয়নি। তবে সম্পাদক টিমকে ধন্যবাদ পড়াকালীন বইয়ের ফ্লো এদিক সেদিক মনে হয়নি বলে। প্রোডাকশন নিয়ে আমার একটা মতামত আছে। ঋদ্ধ প্রকাশনীর এ যাবত কালের যত প্রোডাকশন হাতে এসেছে সবগুলোই টপনচ; ‘কৃষ্ণকায়া’র প্রোডাকশন কোয়ালিটি আরো ভালো লেগেছে। বিশেষত এর প্রচ্ছদের কালার এবং এলিমেন্ট কম্বিনেশন। কন্টেন্ট এবং পুরত্ব হিসেবে বললে বইয়ের ছাড়মূল্য আমার কাছে পাঠকসুলভ বলেই মনে হয়েছে।
🔸সবশেষে:
যারা মৌলিক ডার্ক ফ্যান্টাসি/ কসমিক হররের মধ্যে ভিন্ন স্বাদের কিছু খুঁজছেন তাদের জন্য রেকমেন্ডেড থাকল। তবে পড়ার আগে সিদ্ধান্ত আপনার। কারণ অতিরিক্ত ভায়ো*লেন্স অনেকেরই সহ্য হয় না–আবার পড়া শুরু করলে শেষ না করার উপায়ন্তর নেই।